বিশ্ববাজারে অস্থিরতা: ফার্নেস অয়েলের দাম লিটারপ্রতি বাড়ল ৮.৩৯ টাকা
চলমান মার্কিন-ইরান সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। এর প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির মধ্যেই দেশে ফার্নেস অয়েলের দাম লিটারপ্রতি ৮.৩৯ টাকা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। এর ফলে প্রতি লিটার ফার্নেস অয়েলের নতুন দাম দাঁড়াল ১০৮.৭৮ টাকা, যা আগে ছিল ১০০.৩৯ টাকা।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিইআরসি কর্তৃক জারি করা এক আদেশে জানানো হয়, নতুন এই মূল্য আজ দুপুর ১২টা থেকে কার্যকর হবে এবং পরবর্তী সমন্বয় না হওয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।
বিইআরসির সর্বশেষ আদেশের ফলে ফার্নেস অয়েলের দাম আগের ১০০.৩৯ টাকা থেকে ৮.৩৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেল। উল্লেখ্য, বিইআরসি জুলাই মাসে আগস্ট মাসের জন্য এই দাম ১০০.৩৯ টাকা নির্ধারণ করেছিল।
নতুন হার অনুযায়ী, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) থেকে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি), সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র, শিল্পকারখানা এবং অন্যান্য গ্রাহকদের প্রতি লিটার ফার্নেস অয়েল ১০৮.৭৮ টাকা দরে কিনতে হবে।
বিইআরসি জানিয়েছে, ২৯ আগস্ট থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ফার্নেস অয়েলের গড় 'প্ল্যাটস রেট', সেপ্টেম্বরে আমদানিকৃত অপরিশোধিত তেলের এফওবি মূল্য এবং মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় হার বিবেচনা করে নতুন এই মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর আগে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম হ্রাস পাওয়ায় টানা দুই মাস দেশে ফার্নেস অয়েলের দাম কমিয়েছিল বিইআরসি। জুলাই মাসে লিটারপ্রতি ৪.৪৪ টাকা কমিয়ে ১০৯.১০ টাকা এবং আগস্টে আরও ৮.৭১ টাকা কমিয়ে ১০০.৩৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে এবার সেই নিম্নমুখী প্রবণতা থেকে সরে এসে নতুন করে দাম বাড়ানো হলো।
সংস্থাটি জানায়, সর্বশেষ মূল্য নির্ধারণের সময়সীমায় বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে তীব্র অস্থিরতা দেখা দেয়। প্রধানত মার্কিন-ইরান যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ায় গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীসহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য সমুদ্রপথে জ্বালানি তেল পরিবহন ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়, যার প্রভাব পড়ে প্ল্যাটসের আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্কে।
তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল কমে যাওয়া ও সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার কারণে প্ল্যাটস ডেটেড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২৯ আগস্টের ৮৯.৬৪ ডলার থেকে একলাফে বেড়ে ৯ সেপ্টেম্বর ব্যারেলপ্রতি ১১৪.২৬ ডলারে পৌঁছে যায়।
সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল রপ্তানি পুনরায় শুরু হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে দর কিছুটা কমলেও সার্বিক পরিস্থিতি ঊর্ধ্বমুখীই ছিল।
গত ২৯ সেপ্টেম্বর ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০২.৫৯ ডলারে স্থির হলেও সংঘাতজনিত সরবরাহ সংকটের আশঙ্কায় পুরো মাসজুড়েই তেলের দাম গড়ে ১৩ শতাংশ বেশি ছিল।
বিইআরসির সর্বশেষ এই সমন্বয় আগের দুই মাসের নিম্নমুখী প্রবণতাকে বিপরীতমুখী করল, যেখানে নিয়ন্ত্রক সংস্থার এই নতুন হার পর্যালোচনার সময়কালে আন্তর্জাতিক ফার্নেস অয়েল ও অপরিশোধিত তেলের মূল্যবৃদ্ধিকে প্রতিফলিত করে।
