৩ হাজার কিমি এক্সপ্রেসওয়ে, ঢাকায় মনোরেল ও নতুন মেট্রোরেল লাইন চালুর পরিকল্পনা সরকারের
দেশব্যাপী সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা আধুনিকায়ন এবং একটি সমন্বিত পরিবহন নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে প্রায় ৩ হাজার কিলোমিটার জাতীয় এক্সপ্রেসওয়ে নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করা হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে একই সঙ্গে ঢাকার যানজট কমাতে নতুন মেট্রোরেল লাইন, মনোরেল ফিডার নেটওয়ার্ক এবং বৈদ্যুতিক বাস চালুর বিশেষ উদ্যোগের কথা তুলে ধরা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে পেশ করা বাজেট বক্তব্যে জানানো হয়, দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত ও জরাজীর্ণ সড়কগুলোর সংস্কার ও পুনর্বাসন কার্যক্রমকে এবার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পাশাপাশি সড়ক, রেল, নৌ ও বিমান পরিবহনকে সমন্বিত করে একটি 'মাল্টিমোডাল' পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।
সড়ক নিরাপত্তা ও মান নিশ্চিত করতে 'স্মার্ট অ্যাক্সেল লোড নিয়ন্ত্রণ' প্রযুক্তির ব্যবহার এবং দেশজুড়ে ১০০টি নতুন নিয়ন্ত্রণ স্টেশন স্থাপনের প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে রিং রোড ও রেডিয়াল সড়ক নির্মাণের মাধ্যমে রাজধানীর যানজট কমানো, ডিজিটাল পদ্ধতিতে টোল আদায় ব্যবস্থা সম্প্রসারণ এবং পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো উন্নয়নের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
ঢাকা ও আশপাশের এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার বৈপ্লবিক পরিবর্তনে ছয়টি এমআরটি লাইন নিয়ে মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এমআরটি লাইন-১ এবং এমআরটি লাইন-৫ (উত্তর রুট)-এর নির্মাণকাজ এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি এমআরটি লাইন-৫ (দক্ষিণ রুট), এমআরটি লাইন-২ এবং এমআরটি লাইন-৪-এর পরিকল্পনা কার্যক্রমও ত্বরান্বিত করার কথা জানানো হয়েছে।
বাজেট প্রস্তাবের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো মেট্রোরেলের টার্মিনাল স্টেশন থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে যাত্রীদের দ্রুত যাতায়াত নিশ্চিত করতে 'মনোরেল' ভিত্তিক ফিডার নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনা। এছাড়া ঢাকার পুরোনো বাসগুলোকে পর্যায়ক্রমে পরিবেশবান্ধব বৈদ্যুতিক বাসে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সরকার নারীবান্ধব ও নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছে। সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক মেট্রোরেল ও বাস ব্যবস্থার প্রসারের মাধ্যমে বায়ু ও শব্দদূষণ কমিয়ে আনার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার কথা বাজেট বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে।
দেশের সমন্বিত যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে বড় বড় সেতু ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণ, ঢাকা-চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এবং পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) ভিত্তিতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়নের রূপরেখা তুলে ধরেছে সরকার।
