রপ্তানিমুখী সব শিল্পখাত বন্ডেড ওয়্যারহাউজ সুবিধা পাবে: আমির খসরু
অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, রপ্তানিমুখী সব শিল্প খাতকে বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধার আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে সরকার। এতদিন এই সুবিধা মূলত তৈরি পোশাক খাতের জন্য সীমিত ছিল।
রপ্তানি বৃদ্ধি, ব্যবসার ব্যয় কমানো এবং অপ্রচলিত খাতগুলোর বিকাশে উৎসাহ দিতে বৃহত্তর নিয়ন্ত্রণমুক্তকরণ (ডিরেগুলেশন) কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।
গতকাল বুধবার (৩ জুন) ঢাকা ফোরাম ইনিশিয়েটিভ (ডিএফআই) আয়োজিত প্রাক-বাজেট গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।
এসময় আমির খসরু বলেন, 'বাংলাদেশ থেকে যে কেউ যেকোনো পণ্য রপ্তানি করলে তাকে বন্ডেড ওয়্যারহাউসের অনুমতি দেওয়া হবে। এটি আর শুধু পোশাক খাতের জন্য নয়।'
তিনি বলেন, স্বর্ণালংকারসহ অন্যান্য উচ্চমূল্যের উৎপাদিত পণ্য রপ্তানিকারকরাও বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধা এবং ব্যাক-টু-ব্যাক ঋণপত্র (এলসি) সুবিধার পাবেন।
মন্ত্রী জানান, প্রশাসনিক জটিলতা ও হয়রানির সুযোগ কমিয়ে এই সুবিধা আরও সহজলভ্য করা হবে।
তিনি বলেন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আর প্রতি বছর বন্ডেড ওয়্যারহাউস লাইসেন্স নবায়ন করতে হবে না। এর পরিবর্তে তিন থেকে পাঁচ বছর পরপর নিরীক্ষা করা হবে।
আমির খসরু বলেন, 'বন্ড নিয়ে আর কোনো হয়রানি থাকবে না। আমরা তা হতে দেব না।'
তিনি বলেন, সরকার এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে চায়, যেখানে স্বর্ণালংকার উৎপাদন, হীরা প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং অন্যান্য রপ্তানিমুখী শিল্প খাত কাঁচামালের আমদানি শুল্ক ও জটিল বিধিনিষেধের বাধা ছাড়াই বিকশিত হতে পারে।
মন্ত্রী আরও বলেন, ব্যবসার লাইসেন্স ও অনুমোদনের জন্য সিঙ্গেল-পয়েন্ট ক্লিয়ারেন্স ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। বিভিন্ন সরকারি সংস্থাকে আবেদন নিষ্পত্তির জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হবে। কোম্পানি নিবন্ধনসহ অন্যান্য নিয়ন্ত্রক সেবাও অনলাইনে স্থানান্তর করা হবে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে।
ডিরেগুলেশনকে সরকারের অর্থনৈতিক কৌশলের অন্যতম ভিত্তি উল্লেখ করে আমীর খসরু বলেন, অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণের কারণে বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসার ব্যয় বেড়েছে এবং বিনিয়োগের গতি কমেছে।
তিনি কারুশিল্পী, সাংস্কৃতিক কর্মী এবং গ্রামীণ উৎপাদকদের অর্থায়ন, ব্র্যান্ডিং ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়ানোর মাধ্যমে সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশের পরিকল্পনার কথাও জানান।
বাংলাদেশের সৃজনশীল অর্থনীতি বিকাশ এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে ঢাকার কাছে ১৬০ একর জায়গাজুড়ে একটি সৃজনশীল জেলা (ক্রিয়েটিভ ডিস্ট্রিক্ট) গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
আমির খসরু কর প্রশাসন, বন্দর কার্যক্রম এবং ব্যবসাসেবার সংস্কারসহ ডিজিটালাইজেশনে সরকারের গুরুত্বারোপের বিষয়টিও তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য পরীক্ষার সময় কমানো এবং বাণিজ্য সুবিধা বাড়াতে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পরীক্ষণ সংস্থাগুলোর সঙ্গে অংশীদারত্বের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
জাতীয় বাজেটের আগে আয়োজিত এই গোলটেবিল বৈঠকে নীতিনির্ধারক ও তরুণ উদ্যোক্তারা বিনিয়োগ, নিয়ন্ত্রক সংস্কার, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কৌশল নিয়ে আলোচনা করেন।
