এনবিআর পুনর্গঠন: রাজস্ব নীতি ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের দায়িত্ব, জনকাঠামো চূড়ান্ত অনুমোদন পাচ্ছে আজ
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) বিলুপ্ত করে নতুন করে গঠন করা রাজস্ব নীতি বিভাগ ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগের দায়-দায়িত্ব ও জনকাঠামো চূড়ান্ত অনুমোদন পেতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। এ অনুমোদনের পরপরই বিভাগ দুটির কার্যক্রম অনুযায়ী জনবল পদায়ন শুরু হবে।
আজ (২০ জানুয়ারি) প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির এক সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হবে বলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সুত্রে জানা গেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সরকারি বাসভবন যমুনায় অনুষ্ঠেয় এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন প্রধান উপদেষ্টা।
রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগের কী দায়িত্বপালন করবে, কোন ধরনের কর্মকর্তা দায়িত্বপালন করবেন—এসব বিষয়ে অনুমোদনের পর বিভাগ দুটিতে কর্মকর্তাদের পদায়ন শুরু হবে।
২০২৫ সালের মে মাসে সরকার এনবিআরকে ভেঙে রাজস্ব নীতি বিভাগ ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ নামে দুটি পৃথক বিভাগ গঠন করেছে, যার উদ্দেশ্য কর প্রশাসন আধুনিকীকরণ, রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা। নীতি প্রণয়ন করবে রাজস্ব নীতি বিভাগ আর তা প্রয়োগ ও আদায় করবে রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ।
রাজস্ব নীতি বিভাগের প্রধান দায়িত্ব হলো কর আইন প্রণয়ন, কর হার নির্ধারণ করা। এছাড়া আন্তর্জাতিক কর চুক্তি তত্ত্বাবধান, কর ফাঁকি রোধে নীতিমালা তৈরি, কর ফাঁকি ও কর ফাঁকির প্রবণতা মূল্যায়নও এ বিভাগের দায়িত্ব।
অন্যদিকে রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগের দায়িত্ব আয়কর, ভ্যাট ও শুল্ক আদায় ও প্রয়োগ, কর আদায় সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনা ও নিরীক্ষা করা। এনবিআরের বর্তমান জনবল এই বিভাগে স্থানান্তরিত হবে।
আজকের এই বৈঠকে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ দুটিকে এক করে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় গঠনের অনুমোদন দেওয়া হবে। একইসাথে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তন করে নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় করার অনুমোদন দেওয়া হবে।
বৈঠকে চারটি নতুন থানার অনুমোদনও দেওয়া হবে। থানাগুলো হচ্ছে কক্সবাজার জেলার মাতারবাড়ী বন্দর থানা, নারায়ণগঞ্জ জেলায় পূর্বাচল দক্ষিণ থানা ও পূর্বাচল উত্তর থানা ও নরসিংদী জেলায় রায়পুরা চরাঞ্চল থানা। বর্তমানে দেশে ৬৩৯টি থানা রয়েছে।
এছাড়া সাতক্ষীরা জেলাকে বিশেষ বিবেচনায় 'এ' ক্যাটাগরিভুক্ত জেলা করা হচ্ছে। জেলাটি এতদিন 'বি' ক্যাটাগরির ছিলো। ২০২০ সালে তৎকালীন সরকার দেশের জেলাগুলোকে বিভিন্নভাবে ক্যাটাগরিতে ভাগ করে। তখন ২৬টি 'এ', ২৬টি 'বি', ৬টি 'সি' ও ৬টি বিশেষ ক্যাটাগরির জেলা ঘোষণা করা হয়।
