যুদ্ধে আমরা কী বহন করি? || আমি ফরিদউদ্দিন আত্তারের কথা বলতে চাই
[ ইরানে জন্ম গ্রহণকারী শোলেহ ওলপে সমকালীন ইংরেজি ভাষার একজন বিশিষ্ট কবি, লেখক ও অনুবাদক। তিনি ইংরেজিতে লেখেন, ফারসি ভাষা থেকে অনুবাদ করেন। পাশাপাশি অপেরা ও কোরাসের জন্য গীতিনাট্যের পাঠও রচনা করেন। ওলপের সাহিত্যকর্মের পরিসর বিস্তৃত। এ পর্যন্ত তার সাতটি কাব্যগ্রন্থ, কয়েকটি নাটক, ফারসি থেকে অনূদিত পাঁচটি বই, তিনটি সংকলন এবং অপেরা ও কোরাসের জন্য রচিত একাধিক গীতিনাট্যের পাঠ প্রকাশিত হয়েছে। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, আরভাইনের রাইটার-ইন-রেসিডেন্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।]
যুদ্ধ শুরু হলে শুধু সীমান্ত বদলায় না। ভাষাও বদলে যায়। শব্দ আর নিরীহ থাকে না। তারাও পক্ষ নেয়। শিবির বেছে নেয়। মানুষও দ্রুত নিজের অবস্থান গুছিয়ে নেয়। টেলিভিশনের পর্দায়। রাজনীতিকের ভাষণে। এমনকি নিত্যদিনের আলাপেও একই ধরনের বাক্য ঘুরেফিরে আসে। প্রতিটি বাক্য যেন এমন এক নিশ্চয়তার ভারবাহী প্রশ্নাতীত এক সত্তা। কাজেই প্রশ্ন তোলার কোনো অবকাশ নেই।
বিশ্বজুড়ে যা ঘটছে, বিশেষ করে আমার জন্মভূমি ইরানে, সেসব ঘটনা অনুসরণ করতে গিয়ে আমি বারবার এ বিষয়টি নিয়ে ভাবি।
পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের এবং বিশ্বের নানা প্রান্তের রাজনীতিকদের বক্তব্যও শুনি। তাদের ভাষার ভঙ্গি আমার অচেনা নয়। আত্মবিশ্বাসে টইটম্বুর। হিসাবি। অনেক সময় নিজের স্বার্থ রক্ষায় ব্যস্ত। তারা যখন ন্যায়বিচার কিংবা নিরাপত্তার কথাও বলেন, তখনো সেই ভাষার গভীরে লুকিয়ে থাকে ক্ষমতা, অবস্থান কিংবা ভাবমূর্তি ধরে রাখার আকাক্সক্ষা।
এ দৃশ্য অবশ্য নতুন কিছু নয়। নতুন হলো এর ব্যাপ্তি এবং গতি। এত দ্রুত, এত বিস্তৃতভাবে এই ভাষা আগে কখনো মানুষের জীবনে ঢুকে পড়েনি। আমরা কেবল এর সাক্ষীই নই। এ ভাষার অংশও হয়ে উঠেছি। এখন আমরা দ্রুত কথা বলি, প্রতিক্রিয়া দ্রুত দিই।
এই বাস্তবতার ভেতর থেকেই আমি ফরিদউদ্দিন আত্তারের কথা বলতে চাই।
ফরিদউদ্দিন আত্তার ছিলেন দ্বাদশ শতকের একজন ইরানি সুফি সাধক ও কবি। কিন্তু তাকে যদি শুধু অতীতের একজন কবি বলে মনে করা হয়, তাহলে বড়মাপের ভুল হবে। মন দিয়ে তার লেখা পড়লে বোঝা যায়, তিনি কোনো দূর অতীতের গল্প বলেন না। তিনি মানুষের চিন্তা, প্রবৃত্তি আর আচরণের এমন সব ছক উন্মোচন করেন, যা শতাব্দীর পর শতাব্দী পেরিয়েও বদলায়নি। বরং আজকের পৃথিবীতে সেগুলো যেন আরও স্পষ্টতর অবয়ব হয়ে ধরা দেয়।
আত্তারের শ্রেষ্ঠ কাব্য পাখিদের সম্মেলন অনুবাদ করতে গিয়েই বিষয়টি আমার কাছে স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। পরে তার কবিতার মধ্য থেকে আমার প্রিয় কবিতাগুলো বেছে অদৃশ্য সূর্য সংকলনটি প্রস্তুত করার সময় সেই বিশ্বাস আরও দৃঢ় হয়। মনে হয়েছিল, প্রাচীন ইরানের এক অসামান্য গ্রন্থ আমি একবিংশ শতাব্দীর পাঠকের হাতে তুলে দিচ্ছি। কেন? কারণ আত্তারের শিক্ষা কোনো বিমূর্ত দর্শন নয়। তিনি ধৈর্য নিয়ে বিশ্লেষণ করেছেন নফসকে। মানুষের অহংকেন্দ্রিক, নিম্নতর সত্তা, অহং। কিংবা তার নিম্নতর সত্তাকে। কীভাবে এই নফস নিজেকে রক্ষা করে, কীভাবে আধিপত্য বিস্তার করতে চায়, এমনকি সত্যের সন্ধানের দাবিকেও নিজের ক্ষমতালিপ্সার ঢাল বা আড়াল হিসেবে ব্যবহার করে নফসের সে অন্তলোকেই আত্তারের অনুসন্ধান।
পাখিদের সম্মেলন গ্রন্থে আত্তার একটি যোদ্ধার গল্প বলেছেন। লোকটি ধার্মিক হিসেবে সুপরিচিত। বহু শত্রুকে পরাজিত করেছে, তার ধর্মনিষ্ঠারও খ্যাতি চারদিকে।
একদিন সে এমন এক মানুষের মুখোমুখি হলো, যাকে সে হত্যা করতে চায়। মৃত্যুর আগে লোকটি শুধু একটি অনুরোধ করল—নামাজ পড়ার জন্য সামান্য সময় চায়। যোদ্ধা অনুমতি দিল। লোকটি সিজদায় নত হয়ে প্রার্থনা শুরু করল। আর ঠিক সেই মুহূর্তে, যখন সে সম্পূর্ণভাবে খোদার সামনে নত, তখনই যোদ্ধা তার তরবারি উঁচিয়ে আঘাত হানার প্রস্তুতি নিল।
আত্তার এই বৈপরীত্যের কোনো ব্যাখ্যা দেন না। তিনি ঘটনাটিকে যেমন, তেমনই পাঠকের সামনে রেখে দেন। যে মানুষ নিজেকে পরম ধর্মপরায়ণ মনে করে, সেই আবার আরেকজনকে তার এবাদতের মুহূর্তে হত্যা করতে উদ্যত হয়। বাইরে সবকিছু ঠিকঠাকই আছে—দোয়া-মোনাজাত আছে, বিশ্বাস আছে, ধর্মীয় পরিচয়ও অটুট। কিন্তু অন্তরে, নিজের নৈতিক শ্রেষ্ঠত্বের অহংকারে উসকে ওঠা এক নফস তাকে ঠেলে দিচ্ছে সহিংসতার দিকে।
ঠিক এখানেই আত্তারের দৃষ্টির তীক্ষ্ণতা। মানুষ কী বিশ্বাস করে, কিংবা বিশ্বাস করে না—এসব তার প্রধান আগ্রহের নয়। কারণ, অবিশ্বাসও একধরনের বিশ্বাস। তিনি দেখতে চান, অহংকারের আবরণ খুলে গেলে মানুষের ভেতরে তলানিতে আসলে কী থাকে। যে আত্মম্ভরিতাকে তিনি বলেছিলেন—'বিপর্যয়ের ঘূর্ণিঝড়'।
এই গল্পকে কেবল ধর্মীয় উগ্রবাদের সমালোচনা ভেবে দূরে সরিয়ে রাখা সহজ। কিন্তু আত্তারের বক্তব্য অনেক বিস্তৃত। তিনি দেখাতে চান, কী সহজে দৃঢ় বিশ্বাস আত্মপক্ষ সমর্থনের অস্ত্রে পরিণত হয়। নিজেকে সঠিক প্রমাণ করার লক্ষ্য নিয়ে ধর্মীয়, রাজনৈতিক, এমনকি নৈতিক আদর্শও কত অনায়াসে আমরা ব্যবহার করি।
চারদিকে তাকালেই তার প্রমাণ মেলে। শুধু রাষ্ট্র বা সরকারের মধ্যে নয়, আমাদের ব্যক্তিগত জীবনেও। যে তর্কে আমরা হারতে রাজি নই; যে অবস্থান ভুল বুঝেও আঁকড়ে ধরে থাকি; অন্যকে বোঝার জন্য নয়, উত্তর দেওয়ার জন্য শুনি; সামাজিক মাধ্যমে নিজের সত্তাকে কেন্দ্র করে যে অন্তহীন আসক্তি; কিংবা পৃথিবী ও নিজের সম্পর্কে সত্যকে বিকৃত করার যে প্রবণতা—সবখানেই একই চক্র কাজ করে।
আত্তার বারবার আমাদের সেই জায়গাতেই ফিরিয়ে আনেন। সমস্যার মূল শুধু আমাদের বিশ্বাসে নয়; সমস্যার মূল সেই মানুষটির ভেতরে, যে বিশ্বাসটি ধারণ করছে।
পাখিদের সম্মেলন কাব্যে এই ভাবনাটি আরও বিস্তৃত এক রূপক-যাত্রার মধ্য দিয়ে ফুটে উঠেছে। একদল পাখি তাদের প্রকৃত অধিপতির সন্ধানে বের হয়। তাদের বলা হয়, সেই অধিপতির নাম সিমোর্গ তার কাছেই রয়েছে তাদের বিভ্রান্তির অবসান। কিন্তু সেখানে পৌঁছাতে হলে অতিক্রম করতে হবে সাতটি উপত্যকা। প্রতিটি উপত্যকাই যেন এক একটি পরীক্ষা। কোথাও ত্যাগ করতে হবে নিজের নিশ্চিত বিশ্বাস, কোথাও আসক্তি, কোথাও আবার নিজের পরিচয়ের বোধ অবধি।
সব পাখি সেই পথ পেরোতে পারে না। কেউ সোনার মোহ ছাড়তে পারে না। কেউ নিজের খ্যাতি। কেউ ভয়ে এক পা-ও এগোতে পারে না। অজুহাত আলাদা, কিন্তু সংকট এক। প্রত্যেকে এমন এক সীমার মুখোমুখি হয়, যার ওপারে যেতে সে রাজি নয়।
সবচেয়ে লক্ষণীয় বিষয় হলো, এই বাধাগুলো বাইরের নয়। তাদের পথ আটকে দাঁড়িয়ে নেই কোনো দানব, কোনো অত্যাচারী শক্তি। প্রতিটি বাধাই তাদের নিজের ভেতরে। কোনো বিশ্বাস, কোনো ভয়, কোনো আকাক্সক্ষা কিংবা কোনো আসক্তি—যাকে তারা নিজের অস্তিত্বের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে মনে করে।
দীর্ঘ পথ পেরিয়ে যে অল্প কয়েকটি পাখি শেষ পর্যন্ত গন্তব্যে পৌঁছায়, তারা বিস্ময়ে আবিষ্কার করে, সিমোর্গ তাদের বাইরে কোথাও নেই। তারা যা খুঁজছিল, তা তাদের নিজেদের মধ্যেই ছিল। কিন্তু এত দিন তা আড়ালে ছিল; কারণ, তারা নিজেদের আঁকড়ে ধরা বোঝাগুলো নামাতে পারেনি।
এই অংশ অনুবাদ করতে গিয়ে একটি প্রশ্ন বারবার ফিরে এসেছে আমার কাছে। এত সরল একটি সত্য মেনে নেওয়া আমাদের জন্য এত কঠিন কেন?
হয়তো কারণ, আত্তারের শিক্ষা আজকের সময়ের প্রচলিত ধারণার ঠিক বিপরীত। আমরা এমন এক সংস্কৃতিতে বাস করি, যেখানে সবকিছুর মাপকাঠি হলো যোগ করা। আরও তথ্য, আরও জ্ঞান, আরও স্পষ্টতা, আরও উন্নত এক ব্যক্তিসত্তা।
সেই যুক্তিটাই উল্টে দেন আত্তার। তার প্রশ্ন, তুমি আর কী অর্জন করবে আসল বিষয় সেটি নয়; বরং কী ত্যাগ করতে পারবে?
এই ভাবনা শুধু ব্যক্তিগত আত্মশুদ্ধির বিষয় নয়। সংঘাত, রাজনীতি, এমনকি সামাজিক জীবন সম্পর্কে আমাদের দৃষ্টিও বদলে দিতে পারে এ ধারা। যে মানুষ অনিশ্চয়তাকে সহ্য করতে পারে না, যে নিজের অবস্থান নিরাপদ রাখতে মরিয়া, সে সেই মানসিকতাকেই বৃহত্তর সমাজে ছড়িয়ে দেয়। আজ আমরা যে সংঘাতগুলোর মুখোমুখি, সেগুলো কেবল স্বার্থ কিংবা মতাদর্শের সংঘর্ষ নয়; এগুলো মানুষের অন্তর্গঠনেরও সংঘর্ষ। যত দিন আমরা নিজের অহং—নিজেকে প্রতিষ্ঠা করার, নিয়ন্ত্রণ করার, সব সময় ঠিক প্রমাণিত হওয়ার প্রবৃত্তি বদলাতে না পারব, তত দিন আমাদের গড়া প্রতিটি ব্যবস্থা সেই একই মানসিকতার প্রতিফলন হয়ে থাকবে।
অনিশ্চয়তাকে যে সত্তা সহ্য করতে পারে না, নিজের অবস্থান আঁকড়ে ধরে রাখতে চায়, সে শেষ পর্যন্ত সেই প্রবণতাকেই বৃহত্তর সমাজে পুনরুৎপাদন করে।
তবে একটি বিষয় পরিষ্কার করে বলা দরকার। আমি বলছি না, আত্তারের কবিতা বা গল্প প্রচলিত অর্থে কোনো সমাধান এনে দেয়। রাজনৈতিক সংকট কীভাবে মিটবে, কিংবা আরও ভালো রাষ্ট্রব্যবস্থা কীভাবে গড়ে তোলা যায়—এসবের কোনো নকশা তিনি দেন না। তিনি আরও গভীরে যান। তিনি অনুসন্ধান করেন সেই নফসি ও রুহানি ভিত্তি, যার ওপর দাঁড়িয়ে মানুষ যেকোনো ব্যবস্থা নির্মাণ করে। এই অনুসন্ধান তিনি করেন রূপকের ভাষায়, আর যাকে তিনি বলেন 'রুহের ভাষা'—কখনো নির্মম, কখনো শাণিত, আবার অপ্রত্যাশিতভাবে রসিকও।
একদিন তোমাকে হয়তোবা বলেছিলাম—
দুনিয়াকে ছেড়ে দাও।
আজ বলছি—
শক্ত করে আঁকড়ে ধরো তাকে।
কারণ, তোমার সমস্ত শক্তি
তুমি তো তাকেই সমর্পণ করেছ।
এখন বলো,
কোন শক্তিতে তাকে ছেড়ে দেবে?
অসচেতনতার লোভ-সমুদ্রে
তুমি ডুবে আছ,
তবু প্রশ্ন করো—
কেন আমি মাহরুম, কেন এগোতে পারছি না?
দুই জাহান শোকে মুহ্যমান, বৃষ্টির মতো কাঁদছে,
আর তুমি এখনো
খচ্চরের মতো একগুঁয়ে বিদ্রোহে অটল।
দুনিয়ার মোহ
তোমার ঈমান চুরি করেছে।
কামনা আর লালসা
বন্দী করে রেখেছে তোমার রূহকে।
এই দুনিয়া আর কী?
উন্মত্ত লোভের এক বাসা ছাড়া!
ফেরাউন আর নমরুদের
ফেলে যাওয়া ভগ্নাবশেষ,
লোভী কারুনের উগরে দেওয়া দৌলত,
কিংবা পাষণ্ড শাদ্দাদের
সঞ্চিত ধন।
পরম মহান স্রষ্টা
যাকে বলেছেন—'কিছুই নয়',
সেই দুনিয়ারই বড়শিতে
তুমি ঝুলিয়ে রেখেছ
নিজের রূহকে।
আর কতকাল ভুগবে
এমন অধঃপতিত এক আস্তানায়?
আর কত দিন
এই ক্ষণস্থায়ী দুনিয়ায়
মৃত গাধার মতো
পড়ে থাকবে?
'অদৃশ্য সূর্য' গ্রন্থে আমি আত্তারের কবিতাকে আজকের জীবনের সঙ্গে মিলিয়ে পড়ার চেষ্টা করেছি। প্রতিদিনের ভাবনার জন্য তার প্রজ্ঞার ছোট ছোট অংশ সেখানে তুলে ধরেছি। এখানে 'অদৃশ্য সূর্য' কোনো রহস্যময় অলৌকিক ধারণা নয়। এ এমন এক আলোর প্রতীক, যা সব সময় আমাদের মধ্যেই আছে, কিন্তু আমাদের ব্যস্ততা, আসক্তি আর আত্মমগ্নতার ঘন পর্দায় ঢাকা পড়ে থাকে। তাকে দেখতে নতুন কোনো বিশ্বাস গ্রহণ করতে হয় না। দরকার শুধু নিজের দিকে তাকানো—আমরা কীভাবে ধারণাকে আঁকড়ে ধরি, কীভাবে বারবার তাকে শক্তিশালী করি, আর কীভাবে সেগুলোর মাধ্যমেই নিজেদের অবস্থান তৈরি করি।
একটি অদৃশ্য সূর্য
আমাদের প্রত্যেকের ভেতরে লুকিয়ে আছে।
একদিন পর্দা সরে যাবে,
সেই সূর্য উদ্ভাসিত হবে, দীপ্ত হয়ে জ্বলে উঠবে।
তার অপরূপ আলোয়
ভালো ও খারাপ—উভয়ই বিলীন হয়ে যাবে।
যত দিন 'আমি' আছে,
তত দিন ভালো-মন্দও আছে।
'আমি' যখন ফানা হবে,
ভালো-মন্দও তখন বিলীন হবে।
আত্তারের গুরুত্ব এখানেই, তিনি আমাদের হাতে তৈরি কোনো উত্তর তুলে দেন না; বরং প্রশ্নগুলোকেই আরও শাণিত করে তোলেন। আমাদের কর্মকে চালিত করছে কী? এমন কী আছে, যা আমরা কোনোভাবেই ত্যাগ করতে রাজি নই? আমাদের এই অটল নিশ্চয়তার উৎস কোথায়?
যুদ্ধের সময়ে এসব প্রশ্ন অনেকের কাছেই অপ্রাসঙ্গিক বলে মনে হতে পারে। সহিংসতার ব্যাপ্তি আর রাজনৈতিক পদক্ষেপের তাগিদ এমন, নিজের ভেতরে ফিরে তাকানোকে তখন গৌণ বলে মনে হয়।
কিন্তু আত্তার তা বলেন না। তিনি কখনোই বলেন না, রুহানি সাধনা বাইরের কর্মের বিকল্প। তিনি বলতে চান, অন্তরের রূপান্তর ছাড়া বাইরের সব পরিবর্তনের চেষ্টাই শেষ পর্যন্ত সেই একই মানসিকতা, একই সহিংসতা ও একই আধিপত্যের পুনরাবৃত্তি ঘটাবে, যাকে বদলাতে আমরা চাই।
প্রিয়তমের কাছে পৌঁছাতে চাইলে,
নিজের 'আমি'কে ভুলে যাও।
আর কোনো পথ নেই।
মোহের অগণিত পর্দা
তোমার আর তোমার প্রতিপালকের মাঝখানে ঝুলে আছে।
তাদের সবার চেয়ে ঘন,
সবার চেয়ে দুর্ভেদ্য পর্দাটি—
তোমার নফস।
লেখকের মন্তব্য: এই প্রবন্ধে উদ্ধৃত সব কবিতাংশ নেওয়া হয়েছে পাখিদের সম্মেলন (মূল ফারসি: মান্তিকুৎ-তাইর) এবং অদৃশ্য সূর্য (মূল ইংরেজি: দ্য ইনভিজিবল সান) গ্রন্থ থেকে।
২০২৫ সালে প্রকাশিত তার বই 'অদৃশ্য সূর্য: রুমির গুরুর কাছ থেকে আত্মার পথনির্দেশ' (The Invisible Sun: A Guide for the Soul from Rumi's Master) ২০২৬ সালের পেন অনুবাদ পুরস্কারের দীর্ঘ তালিকায় স্থান পেয়েছে।
মূল: শোলেহ ওলপে
অনুবাদ: সৈয়দ মূসা রেজা