বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের রাবার বুলেট নিক্ষেপ; ঢাকা, মাদারীপুরে নিহত ৬
কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে সর্বশেষ পরিস্থিতি জানতে পড়ুন দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড-এর লাইভ আপডেট।
ঢাকার উত্তরা, বাড্ডা ও সাভার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এবং মাদারীপুরে কোটা সংস্কার আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন।
ঢাকার উত্তরায় নর্দান ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন।
আহতাবস্থায় তাদেরকে বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ, উত্তরা শাখার জরুরি বিভাগে আনা হলে সেখানে তাদের মৃত্যু হয় বলে নিশ্চিত করেছেন জরুরি বিভাগের নার্স সুপারভাইজার শাহিদা বেগম।
নিহতদের মধ্যে একজন নর্দান ইউনিভার্সিটির ছাত্র বলে জানা গেছে।
নর্দান ইউনিভার্সিটির একজন অধ্যাপক নাম প্রকাশ না করার শর্তে টিবিএসকে বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের চতুর্থ সেমিস্টারের ছাত্র আসিফ সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন।'
ঘটনার বিস্তারিত তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
অন্যদিকে রাজধানীর বাড্ডা ও রামপুরা এলাকায় পুলিশের সঙ্গে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষে আরেকজন নিহত হয়েছেন।
নিহতদের মধ্যে একজনের নাম দুলাল মাতবর। তিনি একজন মাইক্রোবাস চালক। জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের সময় তিনি বাড্ডা এলাকা পার হচ্ছিলেন।
ফরাজি হাসপাতালের উপ-মহাব্যবস্থাপক রুবেল হোসেন টিবিএসকে বলেন, হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক দুলালকে মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি আরও বলেন, ওই হাসপাতালে অন্তত ৩০০–৪০০ মানুষ চিকিৎসা নিয়েছেন।
সাভার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (এমআইএসটি) আরেক শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন।
আমাদের সাভার প্রতিনিধি জানিয়েছেন, ওই শিক্ষার্থী পুলিশের সাঁজোয়া যান এপিসি'র ওপরে উঠলে পুলিশ তাকে গুলি করে। তাকে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে তার মৃত্যু হয় বলে নিশ্চিত করেছেন ডিউটি ম্যানেজার ইউসুফ আলী।
মাদারীপুরে আন্দোলনকারী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার সময় মাদারীপুর সরকারি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র দীপ্ত হাওলাদার লেকে ঝাঁপ দেন। পরে পানি থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
অন্যদিকে রাজধানীতে কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের এক শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন বলে স্কুলটির একজন শিক্ষক টিবিএসকে নিশ্চিত করেছেন।
ওই শিক্ষার্থীর মা নাজিয়া খানও ছেলে নিহতের বিষয়ে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন।
ফেসবুকে নিয়ে তিনি লেখেন, 'ওরা আমার সন্তান ফারহান ফাইয়াজকে মেরেছে। তার বয়স ১৮ বছরও হয়নি। আমি ফারহান ফাইয়াজের বিচার চাই #জাস্টিসফরফারহান। তার জন্ম ২০০৬ সালের ১২ সেপ্টেম্বর। আমি চাই আপনারা সবাই সর্বোচ্চ শক্তি নিয়ে চিৎকার করুন।'
