‘কমপ্লিট শাটডাউন’ আজ, সারা দেশে ২২৯ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন
সারা দেশে আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) 'কমপ্লিট শাটডাউন' কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীরা। এ কর্মসূচি চলাকালে শুধু হাসপাতাল ও জরুরি সেবা ছাড়া সবকিছু বন্ধ করে দেওয়ার কথা বলেছেন তারা।
কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ওপর 'আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হামলা' ও আন্দোলনে অন্তত ছয়জন নিহত হওয়ার প্রতিবাদে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।
এদিকে কমপ্লিট শাটডাউনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঢাকাসহ সারা দেশে ২২৯ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি সদর দপ্তরের জনসংযোগ।
গতকাল 'বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন'-এর অন্যতম সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টের মাধ্যমে শাটডাউন কর্মসূচির ঘোষণা দেন।
'শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশ, বিজিবি, র্যাব, সোয়াটের ন্যাক্কারজনক হামলা, খুনের প্রতিবাদ, খুনিদের বিচার, সন্ত্রাসমুক্ত ক্যাম্পাস নিশ্চিত ও এক দফা দাবিতে আগামীকাল ১৮ই জুলাই সারাদেশে "কমপ্লিট শাটডাউন" ঘোষণা করছি।'
সারাদেশের প্রতিটি স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়, মাদরাসা শিক্ষার্থীদেরকে এ কর্মসূচি সফল করার আহ্বান জানান আফিস।
অভিভাবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, 'আমরা আপনাদেরই সন্তান। আমাদের পাশে দাঁড়ান, রক্ষা করুন। এ লড়াইটা শুধু ছাত্রদের না, দলমত নির্বিশেষে এদেশের আপামর জনসাধারণের।'
মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) কোটা সংস্কার আন্দোলনে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষে ৬ জন মারা যান। আহত হন কয়েকশ মানুষ। এ অবস্থায় মঙ্গলবারই সারা দেশের স্কুল-কলেজ বন্ধ ঘোষণা করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বুধবার বন্ধ ঘোষণা করা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সব সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। সেইসঙ্গে হলও ছাড়তে বলা হয় সব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের।
তবে আন্দোলনকারীরা হল না ছাড়ার ঘোষণা দেন। এ অবস্থায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের পর বেশিরভাগ আবাসিক শিক্ষার্থী হল ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ একাধিক রাউন্ড রাবার বুলেট, টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় শিক্ষার্থীরা আহত হওয়ার পাশাপাশি ঘটনাস্থলে থাকা কয়েকজন সাংবাদিকও পৃথক সংঘর্ষে আহত হন।
এছাড়া জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়েও পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ হয়। বুধবার বিকেলের পর থেকে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও পুলিশের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্তত ৮০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। তাদের অধিকাংশই পুলিশের ছোড়া রাবার বুলেটে আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে গতকাল রাতে রাজধানীর শনির আখড়ায় কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে স্থানীয়রাও যোগ দেন। এ সংঘর্ষে সিয়াম (১৮) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন।
যাত্রাবাড়ীর সংঘর্ষে বেশ কিছু মোটরসাইকেলসহ নিকটবর্তী মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারের টোল প্লাজার বুথ এবং একটি পুলিশ বক্স ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।
শনির আখড়ায় পুলিশের শটগানের গুলিতে ২ বছরের এক শিশু ও তার বাবা, শিক্ষার্থী, পথচারীসহ অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকরা।
