চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে নলকূপ দিয়ে পানির বদলে বের হচ্ছে গ্যাস
চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার লবণের মাঠে নলকূপ স্থাপন করতে গিয়ে পানির বদলে পাওয়া গেছে প্রাকৃতিক গ্যাস। সেই গ্যাস থেকে জ্বলছে আগুনও । বুধবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলার চানুয়া ইউনিয়নের খুদুকখালী গ্রামের নয়াপাড়ার পশ্চিম পাশে দুলা মিয়া নামে এক কৃষকের নলকূপে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেডকে (বাপেক্স) অবহিত করার দাবি করলেও বাপেক্স কর্তৃপক্ষ তা অস্বীকার করেছে।
নলকূপে আগুন জ্বলার এ খবর স্থানীয়দের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। উৎসুক মানুষরা এমন দৃশ্য দেখার জন্য ভিড় জমাতে থাকেন ওই এলাকায়।
চানুয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ জানান, খুদুকখালী গ্রামের ১ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা দুলা মিয়া তার লবণের মাঠের জন্য পানি উত্তোলন করতে একটি নলকূপ স্থাপনের কাজ শুরু করেন। তিনি কূপের মধ্যে পাইপ ঢোকানোর প্রক্রিয়া শুরু করলে কূপের পাশের একটি গর্ত থেকে বাতাস বের হওয়ার শব্দ শুনতে পান। কৌতূহলী হয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের ঘটনাটি দেখার জন্য ডাকেন। আসলে কী ঘটছে বোঝার জন্য দুলা মিয়া নলকূপের মুখে আগুন জ্বালালে সবাইকে অবাক করে দিয়ে তা জ্বলতে শুরু করে।
রশিদ বলেন, 'আমি তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও বাঁশখালী থানায় খবর দিয়েছি। খবর পাওয়ার পর পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে এসে প্রাথমিক পরিদর্শন করে গিয়েছেন।'
ইউএনও জেসমিন আখতার বৃহস্পতিবার (১১ জানুয়ারি) দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে গ্যাস বের হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, চানুয়ার এ ঘটনা সম্পর্কে স্থানীয় চেয়ারম্যান তাকে অবগত করেছেন।
তিনি বলেন, 'আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শনে একজন প্রতিনিধি পাঠিয়েছি; তথ্যটি সত্য বলে মনে হয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে বাপেক্সকে মৌখিকভাবে জানিয়েছি। তারা আনুষ্ঠানিক চিঠি চেয়েছে। পরে আবার আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শনের জন্য একজন কর্মকর্তাকে পাঠিয়েছি। তার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আজ বাপেক্সকে চিঠি দেব। চিঠি পাওয়ার পর তারা শিগগিরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন বলে আশা করা যাচ্ছে।'
তবে বাপেক্স চট্টগ্রামের আঞ্চলিক মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আবুল বাশারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বাঁশখালীতে গ্যাস পাওয়ার বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়ার কথা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, 'আমরা তথ্য পেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।'
নলকূপ স্থাপনের সময় এভাবে প্রাকৃতিক গ্যাস পাওয়ার ঘটনা স্থানীয় মানুষ ও কর্তৃপক্ষের মধ্যে আগ্রহের সৃষ্টি করেছে। তবে গ্যাসের প্রকৃতি ও ব্যাপ্তি নির্ধারণে আরও অনুসন্ধান প্রয়োজন।
