মুফতি ফয়জুলের ওপর হামলায় আবারও প্রমাণ হলো আ.লীগ সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়: ফখরুল
'মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করিমের ওপর হামলার ঘটনায় আবারও প্রমাণিত হলো, বর্তমান অবৈধ সরকারের অধীনে অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন কখনোই সম্ভব নয়, এদের আমলে দেশে নির্বাচনের কোন পরিবেশ নেই', এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সোমবার সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে হামলার ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব বলেন, "প্রকাশ্য দিবালোকে প্রশাসনের নাকের ডগায় একজন ধর্মীয় নেতা ও মেয়র প্রার্থীর ওপর সন্ত্রাসীদের হামলার ঘটনা কাপুরুষোচিত ও ন্যাক্কারজনক। আমি এই ঘটনায় তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও ধিক্কার জানাচ্ছি। সন্ত্রাসীদের দ্বারা এই ধরনের বর্বরোচিত হামলায় আরও প্রমাণিত হয়েছে যে, আওয়ামী লীগ তাদের ছাড়া বিরোধী দলের কোন প্রার্থীকেই সহ্য করতে পারে না। হামলা চালিয়ে আক্রমণ করে অথবা যেকোন প্রক্রিয়ায় তাদেরকেই বিজয়ী হতে হবে।"
তিনি বলেন, "বর্তমান নির্বাচন কমিশনও সরকারের হুকুমের বাইরে চলতে পারে না। বিরোধীদলহীন এ ধরণের একটি নির্বাচনও তারা আয়োজন করতে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। যেখানে একজন মেয়র প্রার্থী সরকারী দলের সন্ত্রাসীদের কর্তৃক হামলার শিকার হয় সেখানে সাধারণ ভোটারদের নিরাপত্তা কোথায়? এ ধরণের নির্বাচনী পরিবেশের জন্যই বিরোধী দলগুলো নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে বিরত রয়েছে। আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই- আওয়ামী লীগের অধীনে কোন অবস্থাতেই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।"
আমি অবিলম্বে মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়জুল করিমের ওপর হামলাকারী আওয়ামী সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর আহবান জানাচ্ছি।
এছাড়াও হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে পৃথক বিবৃতি দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী।
প্রতিবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা'ছুম এক বিবৃতিতে বলেন, ''একজন মেয়র প্রার্থীর ওপর হামলার এ দুঃখজনক ঘটনাই প্রমাণ করে বর্তমান নির্বাচন কমিশন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করতে ব্যর্থ হয়েছে। যেখানে সরকারি দলের সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হয়ে একজন মেয়র প্রার্থী পুলিশের সামনে গিয়ে হাউমাউ করে কাঁদছে, সেখানে ভোটারদের জানমালের নিরাপত্তা কোথায়? এ বাস্তব অবস্থার কারণেই বিরোধী দলগুলো এ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেনি।"
এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে এক যৌথ বিবৃতিতে গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক ড.রেজা কিবরিয়া ও সদস্যসচিব নুরুল হক নুর বলেন, "আমরা এই নির্বাচন বাতিলের দাবি জানাই। হামলার ঘটনায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার যে মন্তব্য করেছেন তা দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছে।"
এছাড়াও হামলার ঘটনায় বাংলাদেশ লেবার পার্টি, কল্যাণ পার্টিসহ যুগপৎ আন্দোলনের অনেক দল-ব্যক্তিবর্গ নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়।
