হিরো আলমের উপহারের গাড়ি রাস্তায় নামাতে লাগবে সাড়ে ৪ লাখ টাকা
আলোচনা-সামলোচনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে দেশের আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলমকে নিজের ছয় লাখ টাকা দামের গাড়িটি উপহার হিসেবে তুলে দিলেন হবিগেঞ্জর চুনারুঘাট উপজেলার শিক্ষক এম মুখলিছুর রহমান। যদিও গাড়িটি নিয়ে হিরো আলমও পড়েছেন বেশ বিপাকে।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) তথ্য বলছে, টয়োটা নোয়া মডেলের পুরনো এই গাড়িটির ফিটনেস শেষ হয়েছে এক দশক আগে। একই সময় মেয়াউত্তীর্ণ হয়েছে ট্যাক্স টোকেন। সব মিলিয়ে এই গাড়িটি রাস্তায় নামাতে হলে সরকারকে পরিশোধ করতে হবে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকা।
৩০ জানুয়ারি হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার নরপতি গ্রামের বাসিন্দা স্থানীয় একটি কিন্ডারগার্টেনের প্রিন্সিপাল এম মুখলেছুর রহমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হিরো আলমকে তার ব্যবহৃত গাড়িটি উপহার দেওয়ার ঘোষণা দেন। এরপর হিরো আলম গাড়িটি নিতে চাইলে মুখলেছুর রহমান গড়িমসি করেন বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ সমালোচিত হন শিক্ষক মুখলেছুর রহমান।
সব আলোচনা-সামলোচনার অবসান ঘটিয়ে মঙ্গলবার (৭ ফেব্রুয়ারি) চুনারুঘাটের নিজ বাড়িতে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে হিরো আলমের হাতে গাড়িটি তোলে দেন মুখলেছুর রহমান।
এ সময় মুখলেছুর রহমান বলেন, 'আমি ওয়াদা করেছিলাম নির্বাচনে হিরো আলম জয়ী হোন বা না হোন, পরের দিন আমার বাড়িতে আসলে আমি গাড়িটি তার হাতে তুলে দেব। কিন্তু কিছু লোক বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমার সমালোচনা করেছেন। এতে আমি খুব কষ্ট পেয়েছি। আমি সিলেটবাসীর সম্মান ক্ষুণ্ন করতে দেব না। সম্মানের সঙ্গে আমি হিরো আলমকে গাড়িটি তুলে দিতে পেরে খুশি।'
গাড়ি উপহার পাওয়ার পর হিরো আলম বলেন, 'আমার ভাই ভালোবেসে আমাকে গাড়িটি উপহার দিয়েছেন। আমি এই গাড়ি গ্রহণ করলাম। তবে এই গাড়িটি আমি নিজে ব্যবহার করব না। সাধারণ মানুষের কল্যাণে অ্যাম্বুলেন্স বানানোর জন্য গাড়িটি দান করে দেব।'
হিরো আলমের হাতে তুলে দেওয়ার পর পুরোনো এই গাড়িটির ফিটনেস নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠে।
বিআরটিএর তথ্য বলছে, টয়োটা নোয়া মডেলের ১৮০০ সিসি পুরনো এই গাড়িটির ফিটনেসের মেয়াদউত্তীর্ণ হয়েছে ২০১৩ সালের ১৫ জুলাই। একই বছরের ১৫ মার্চ ট্যাক্স টোকেনের মেয়াদও শেষ হয়েছে। রেজিস্ট্রেশন নবায়ন ও ভ্যাট-ট্যাক্সসহ সব মিলিয়ে এই গাড়িটি রাস্তায় নামাতে হলে সরকারকে পরিশোধ করতে হবে ৪ লাখ ৩৯ হাজার ৪৪৩ টাকা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে হবিগঞ্জ বিআরটিএর সহকারী পরিচালক হাবিবুর রহমান বলেন, '২০১৩ সাল থেকে ওই গাড়ির ট্যাক্স টোকেন ও ফিটনেস সনদ নবায়ন নেই। এছাড়া আরও বিভিন্ন বিষয় মিলিয়ে গাড়িটি রাস্তায় নামাতে হলে ৪ লাখ ৩৯ হাজার ৪৪৩ টাকা পরিশোধ করতে হবে।'
এ ব্যাপারে এম মুখলেছুর রহমান বলেন, '২০১৮ সালে গাড়িটি ৬ লাখ টাকায় আমি এফিডেভিটের মাধ্যমে কিনেছিলাম। আমি যখন গাড়িটি কিনি, তখনই এটার ফিটনেস সনদের মেয়াদোত্তীর্ণ ছিল। এছাড়া সর্বশেষ ট্যাক্সও পরিশোধ করা হয় ২০১৩ সালেই।'
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে হিরো আলম বলেন, 'গাড়িটি নেয়ার আগে ফিটনেস ও ট্যাক্সের বিষয়টি জানতাম না। পরে জানতে পেরে কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে বিষয়টি বুঝতে পেরেছি।'
তিনি বলেন, 'এ ব্যাপারে আমি বিআরটিএর সাথে কথা বলব। যেহেতু আমি গাড়িটি মানবসেবার জন্য দান করেছি, সেহেতু মানবিক দিক বিবেচনা করে কিছু কম-বেশি করে গাড়িটি রাস্তায় নামানো যায় কি না সেটার চেষ্টা করছি।'
