নারায়ণগঞ্জে ৩০০ শয্যার হাসপাতালকে করোনা ইউনিট ঘোষণা
৮ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন ৭৭ জন। এদের মধ্যে মারা গেছেন ১০ জন। এরইমধ্যে জেলায় আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য নগরীর খানপুর ৩০০ শয্যার হাসপাতালকে করোনা ইউনিট হিসেবে ঘোষণা করেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।
সিভিল সার্জন ইমতিয়াজ আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে বিষয়টি মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে।
তিনি বলেন, আগামী দুই-তিনদিনের মধ্যেই খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালে করোনা রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া শুরু হবে। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের নমুনা সংগ্রহ করে রাজধানীর আইইডিসিআরে পাঠানো হবে।
খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালকে করোনা ইউনিট ঘোষণা করার কারণে এখন থেকে সাধারণ রোগীরা নগরীর নিতাইগঞ্জে অবস্থিত নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল (ভিক্টোরিয়ায়) চিকিৎসা নিতে পারবেন।
বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব-এর সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসনের ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে জেলা প্রশাসনের পক্ষে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সেলিম রেজা মুখ্যসচিবকে জেলার ভয়াবহ পরিস্থিতি উল্লেখ করেন। এছাড়া নারায়ণগঞ্জে দ্রুত করোনা ইউনিট স্থাপনসহ প্রশিক্ষিত ডাক্তার, নার্স ও ওয়ার্ডবয় পাঠানোর দাবি তোলেন।
জবাবে মুখ্য সচিব তাৎক্ষণিকভাবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে নারায়ণগঞ্জে করোনা ইউনিট স্থাপনের নির্দেশ দিয়ে প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি পাঠানোর কথা বলেন। মুখ্য সচিব বলেন, করোনা ইউনিট স্থাপনের সরঞ্জামাদি পৌঁছাতে কয়েকদিন সময় লাগতে পারে। কিন্তু যত দ্রুত সম্ভব করোনার চিকিৎসা সেবা শুরু করতে হবে।
এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সেলিম রেজা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব নারায়ণগঞ্জে করোনা ইউনিট স্থাপন, চিকিৎসা প্রদান ও সরঞ্জামাদি পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। আশা করি, দ্রুততম সময়ের মধ্যে খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা সেবা শুরু হবে।
নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক গৌতম সাহা জানান, খানপুর হাসপাতালে ভেন্টিলেটর ও আইসিইউর কোনো ব্যবস্থা নেই। এসব সরঞ্জামাদি দ্রুত পাঠানোর জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আবেদন করা হয়েছে। আশা করছি দ্রুততম সময়ের মধ্যেই এসব পেয়ে যাব।
তিনি আরও বলেন, আগামী দুয়েকদিনের মধ্যেই আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা সেবা খানপুর হাসপাতালে শুরু হবে।
নারায়ণগঞ্জ সিভিল সার্জন ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের সরকারিভাবে চিকিৎসা সেবা দেওয়ার জন্য মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ও টেকনিক্যাল পারসনের সংকট রয়েছে। এসব সংকট মেটানোর জন্য স্থানীয়ভাবে গড়ে ওঠা বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক মালিকদের কাছে সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।
বেসরকারি ক্লিনিক মালিকদের সংগঠন সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। আগামীকাল থেকে ওই অ্যাসিস্ট্যান্টদের সিভিল সার্জন অফিসে পাঠানো হবে বলে তারা আশ্বস্ত করেছেন।
এদিকে নারায়ণগঞ্জ খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালে করোনা রোগীদের পরীক্ষার জন্য ল্যাব স্থাপন ও কিট প্রদানের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। নারায়ণগঞ্জে করোনা রোগীর পরীক্ষাগার স্থাপনের দাবি করে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে চিঠিপাঠিয়েছেন সিটি করপোরেশনের ১৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ।
একই দাবি করে সম্প্রতি বিবৃতি দিয়েছেন ও প্রেস কনফারেন্স করেছেন নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাব ও উপজেলা সাংবাদিক ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দ।
