চিকিৎসকসহ মৃত্যু ৪ জনের, নতুন আক্রান্ত ২১৯
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত আরও ৪ জন মারা গেছেন। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা ৫০ জনে দাঁড়ালো। এছাড়া নতুন ২১৯ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে মোট ১ হাজার ২৩১ জনের শরীরে শনাক্ত হলো প্রাণঘাতি ভাইরাসটি।
বুধবার দুপুরে নিয়মিত অনলাইন ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক এ তথ্য জানান।
মৃতদের মধ্যে রয়েছেন সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মঈন উদ্দিন (৫০)। আজ বুধবার ভোর সাড়ে ৬টায় তিনি ঢাকার কুর্মিটোলা হাসপাতালে মারা যান। দেশে এই প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে কোনো চিকিৎসক মারা গেলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ৭ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন। এ পর্যন্ত করোনাভাইরাস থেকে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৪৯ জন।
ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ জানান, করোনায় আক্রান্ত হয়ে ডা. মঈন উদ্দিনের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার মৃত্যুর তথ্যটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর প্রধানমন্ত্রীকে জানালে তিনি শোক প্রকাশ করেন।
অন্যদিকে, ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ২ হাজার ৪৮টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এরমধ্যে পরীক্ষা করা হয়েছে ১ হাজার ৭৪০টি।
তিনি আরও জানান, মৃত চারজনের মধ্যে তিনজন পুরুষ, অন্যজন নারী। এদের মধ্যে দুইজনের বয়স ৭০-এর ওপরে, একজনের ৫০, অন্যজনের বয়স ৩৫ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে।
উল্লেখ্য, দেশে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত প্রথম রোগী শনাক্ত হয় ৮ মার্চ। এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশে প্রথম একজনের মৃত্যু হয় ১৮ মার্চ।
করোনাভাইরাস সংক্রান্ত যেকোনো তথ্যের জন্য সরকার ইতোমধ্যেই একটি বিশেষ ওয়েবসাইট (www.corona.gov.bd) চালু করেছে।
এক নজরে দেশের করোনাচিত্র
- আক্রান্ত হয়েছেন: ১২৩১ জন।
- সুস্থ হয়ে উঠেছেন: ৪৯ জন।
- মারা গেছেন: ৫০ জন।
অন্যদিকে, ওয়ার্ল্ডোমিটার এর তথ্যমতে, বুধবার বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা পর্যন্ত বৈশ্বিক এ মহামারিতে সারা পৃথিবীতে এ যাবত ২০ লাখ ৪ হাজার জনেরও বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে প্রায় ৪ লাখ সাড়ে ৮৫ হাজার জন সুস্থ হয়ে উঠলেও প্রাণ গেছে ১ লাখ ২৬ হাজার ৮১১ জনের। দুর্ভাগ্যক্রমে, এ সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে প্রতিনিয়তই বাড়ছে।
সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে যেসব দেশে:
- যুক্তরাষ্ট্র: ২৬ হাজার ৬৪ জন।
- ইতালি: ২১ হাজার ৬৭ জন।
- স্পেন: ১৮ হাজার ২৫৫ জন।
- ফ্রান্স: ১৫ হাজার ৭২৯ জন।
- যুক্তরাজ্য: ১২ হাজার ১০৭ জন।
- ইরান: ৪ হাজার ৬৮৩ জন।
- বেলজিয়াম: ৪ হাজার ১৫৭ জন।
- জার্মানি: ৩ হাজার ৪৯৫ জন।
- চীন: ৩ হাজার ৩৪২ জন।
- নেদারল্যান্ড: ২ হাজার ৯৪৫ জন।
