উখিয়ায় ১৫০ শয্যার বিশেষায়িত কোভিড-১৯ হাসপাতাল উদ্বোধন
করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব কক্সবাজারে ক্রমে বাড়ছে। ছড়িয়ে পড়ছে মানবিক আশ্রয়ে থাকা রোহিঙ্গা ক্যাম্পেও। গত পাঁচ দিনে আক্রান্ত হয়েছেন ১০ রোহিঙ্গা। ইতোমধ্যে করোনা পজিটিভ এসেছে স্থানীয় টেকনাফের ৯ জন ও উখিয়ার ৩২ জনের।
করোনা আক্রান্ত উখিয়া-টেকনাফের স্থানীয় ও রোহিঙ্গাদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে উখিয়ায় ১৫০ শয্যার আইসোলেশন সেন্টার ও বিশেষায়িত হাসপাতাল উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে ইউএনএইচসিআর, ব্র্যাক ও রিলিফ ইন্টারন্যাশনালের উদ্যোগে স্থাপিত হাসপাতালটির উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন।
এ সময় করোনাভাইরাস সংক্রমণ থেকে আত্মরক্ষায় সবাইকে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান জেলা প্রশাসক।
কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের সামান্য ভেতরে, উখিয়া ডিগ্রি কলেজের দক্ষিণ পাশের প্রায় তিন একর জমির ওপর এই কোভিড হাসপাতাল তৈরি করা হয়েছে। জাতিসংঘের উদ্বাস্তু বিষয়ক হাইকমিশনে (ইউএনএইচসিআর) অর্থায়নে এই বৃহৎ আকারের আধুনিক করোনা আইসোলেশন হাসপাতালের নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছিল ৩০ মার্চ।
উদ্বোধনের সময় ইউএনএইচসিআর-এর কক্সবাজার অফিসের হেড অব অপারেশন ইনাকুটুকি, কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডা. মো. মাহবুবুর রহমান, আরআরআরসি অফিসের প্রতিনিধি, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতিনিধি, উখিয়ার ইউএনও মো. নিকারুজ্জামান, ওসি মর্জিনা আকতার মর্জু, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রঞ্জন বড়ুয়া রাজন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি, রিলিফ ইন্টারন্যাশনালের প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, মঙ্গলবার ১৫০ জনের মেডিকেল টিম কক্সবাজার এসে পৌঁছেছে। তাদেরকে হাসপাতালটি বুধবার বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। তারা এখন হাসপাতালে ট্রায়াল ব্যবস্থাপনার কাজ করছেন।
প্রতিদিন তিন শিফটে ৫০ জন করে চিকিৎসক, নার্স, টেকনিশিয়ান, মিডওয়াইফ, ক্লিনার ও আয়াসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী কোভিড হাসপাতালটিতে ডিউটি করবেন। ১৫০ জনের মেডিকেল টিম ও সংশ্লিষ্ট আরও ১৫ জনসহ মোট ১৬৫ জনের থাকার জন্য আবাসিক ব্যবস্থা হিসাবে উখিয়ার ইনানীতে একটি বড় হোটেল ভাড়া করা হয়েছে। ২টি বাস ও ২টি আধুনিক মডেলের মাইক্রোবাস তাদের যাতায়াতের জন্য রাখা হয়েছে। মূলত হাসপাতালে ১৫০ বেডের উল্লেখ হলেও ২০০ বেডের চিকিৎসা সেবার সুবিধা থাকবে।
সূত্র আরও জানায়, উখিয়ার কোভিড হাসপাতালটিতে সবসময় তিনটি অ্যাম্বুলেন্স উপস্থিত থাকবে। দুটি অ্যাম্বুলেন্স আভ্যন্তরীণ রোগী আনা-নেওয়া এবং অপরটি চট্টগ্রাম, ঢাকাসহ দূরে কোথাও রোগী রেফার করা হলে সেখানে যাতায়াত করবে।
