করোনাকালে ছুটছেন ‘স্প্রে আশিক’
কখনো হাসপাতাল, আবার কখনো মসজিদ-মন্দিরে জীবাণুনাশক ভর্তি স্প্রে মেশিন নিয়ে ছুটে যান আশিকুল আলম। সামাজিক দায়বোধ থেকে শহরের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে বিরামহীনভাবে ছুটছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এই তরুণ।
শহরবাসীর কাছে অচেনা এ তরুণ করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর থেকেই জীবাণুনাশক ছিটিয়ে যাচ্ছেন সবখানে। প্রতিদিন একা একা জীবাণুনাশক স্প্রে মেশিন নিয়ে ঘুরে-বেড়ানোয় এখন সবার কাছে পরিচিত হয়ে উঠেছেন 'স্প্রে আশিক' হিসেবে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের মুন্সেফপাড়া এলাকার প্রয়াত হাবিব আলমের ছেলে আশিকুল আলম পেশায় আমদানি-রপ্তানিকারক ব্যবসায়ী। পাশাপাশি রোটারি ক্লাবের সঙ্গেও যুক্ত আছেন। তবে করোনাভাইরাসের প্রভাবে এখন তার ব্যবসা বন্ধ। জাতির এই ক্রান্তিলগ্নে নিজে সুরক্ষিত থাকার পাশাপাশি আশপাশের মানুষকে সুরক্ষিত রাখার জন্যই আশিকের এই প্রয়াস।
প্রতিদিন সকালে ১৮ লিটার ওজনের জীবাণুনাশক ভর্তি স্প্রে মেশিন নিয়ে বাসা থেকে বেরিয়ে পড়েন তিনি। দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বাসা-বাড়ি, মসজিদ-মন্দির, সরকারি-বেসরকারি অফিস এবং সড়কে স্প্রে করেন জীবাণুনাশক।
তবে শুধু জীবাণুনাশক ছিটানোতেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি তিনি। বর্তমানে 'বেকার' আশিক নিজের জমানো টাকায় করোনা দুর্গত শতাধিক হতদরিদ্র পরিবারকে দিয়েছেন খাদ্য সহায়তা। পাশাপাশি রোজার মাসে বিলিয়েছেন সেহরি ও ইফতার।
আশিকুল আলম জানান, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে ২৪ মার্চ জীবাণুনাশক ছিটানোর জন্য একটি স্প্রে মেশিন কেনেন তিনি। প্রথমদিন নিজের ঘর ও আশপাশের সড়কে জীবাণুনাশক ছিটান। এরপর এলাকার অন্যদের কথা চিন্তা করে কাঁধে স্প্রে মেশিন নিয়ে বেরিয়ে পড়েন শহরে। শুরু করেন স্প্রে কার্যক্রম।
তিনি আরও জানান, মানুষের সুরক্ষার কথা চিন্তা করে সামাজিক দায়বোধ থেকে বাসা-বাড়ি, সরকারি-বেসরকারি অফিস, হাসপাতাল-ক্লিনিক, মসজিদ-মন্দির, যানবাহন ও সড়ক জীবাণুমুক্ত করতে জীবাণুনাশক ছিটান তিনি। এখন এই স্প্রে মেশিনই তার সঙ্গী।
আশিক বলেন, 'পানির সঙ্গে ব্লিচিং পাউডার মিশিয়ে জীবাণুনাশক তৈরি করি। এরপর ১৮ লিটারের স্প্রে মেশিনটিতে জীবাণুনাশক ভরে কাঁধে নিয়ে বাসা থেকে বেরিয়ে পড়ি। এটি শেষ হলে আবারও পানি-ব্লিচিং পাউডার মিশিয়ে নতুন করে তৈরি করি। এভাবে প্রতিদিন প্রায় ৩০০ লিটারের বেশি জীবাণুনাশক ছিটাই।'
ভ্রমণপ্রিয় আশিক ইউরোপ-আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের ৩০টিরও বেশি দেশে ভ্রমণ করেছেন। 'স্প্রে আশিকে'র জীবাণুনাশক ছিটানোর বিষয়টিকে অনুকরণীয় হিসেবে দেখছেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
তাদের মতে, আশিকের মতো সবাই যদি এগিয়ে আসেন, তাহলে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় করোনা দুর্যোগ কাটিয়ে উঠতে পারবে গোটা বাংলাদেশ।
এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা নাগরিক ফোরামের সভাপতি পীযূষ কান্তি আচার্য বলেন, 'করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর থেকেই আশিককে দেখছি জীবাণুনাশক ছিটাতে। বৈশ্বিক এই দুর্যোগে সামাজিক দায়বোধ থেকে তার এই প্রচেষ্টা প্রশংসনীয় এবং অনুকরণীয়। দেশের অন্যান্য স্থানেও আশিকের এই কর্মকাণ্ড অনুকরণীয় হতে পারে।'
