সিরিজ জয়ের ম্যাচে মাশরাফিদের ঘাম ছুটিয়ে দিলেন টিরিপানো
একটি নাম খুব বড় করে- তামিম ইকবাল। একটু একটু করে ঘনকালো হয়ে ওঠা আকাশটাকে এক ইনিংসেই রাঙিয়ে তুলেছেন বাংলাদেশের বাঁহাতি এই ওপেনার। কিন্তু এই আকাশে আবারও জমে ওঠে মেঘ। দৈত্যের মতো হাহা চিৎকার করে শুধু তামিমেরই নয়, বাংলাদেশের রঙিন আকাশকেও গিলে নিতে বসেছিলেন ডোনাল্ট টিরিপিানো।
ক্লাইম্যাক্স, সাসপেন্সে ভরপর, যেখানে খলনায়কের নাম টিরিপানো। বিশাল সংগ্রহ গড়েও জিম্বাবুয়ের এই অলরাউন্ডারের টর্নেডোতে অনেকটা সময় আশা-নিরাশার দোলাচলে দুলতে হয়েছে বাংলাদেশকে। শেষ পর্যন্ত জয়ের দেখা মিলেছে, কিন্তু এর আগে ঘাম দিয়ে জ্বর ছেড়েছে বাংলাদেশের।
মঙ্গলবার সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তিন ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে জিম্বাবুয়েকে ৪ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। রুদ্ধশ্বাস এই জয়ে এক ম্যাচ আগেই সিরিজ জয় নিশ্চিত হয়েছে মাশরাফি বিন মুর্তজার দলের।
টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে ম্যাচ সেরা তামিম ইকবালের ক্যারিয়ার সেরা ১৫৮ ও মুশফিকুর রহিমের হাফ সেঞ্চুরিতে ৮ উইকেট ৩২২ রান তোলে বাংলাদেশ। জবাবে দারুণ লড়াই করা জিম্বাবুয়ের ইনিংস শেষ হয় ৩১৮ রানে।
শেষের দিকে ব্যাট হাতে ঝড় তুলে বাংলাদেশের পিলে চমকেই দিয়েছিলেন মাত্র ২৮ বলে ২টি চার ও ৫টি ছক্কায় হার না মানা ৫৫ রান করা ডোনাল্ট টিরিপানো। ৯ নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে আল আমিন-শফিউলদের বলে তাণ্ডব চালাল তিনি। সঙ্গে টিনোটেন্ডা মুতুম্বোদজিও সপাটে ব্যাট চালিয়েছেন। এদের ব্যাটিংয়ে জয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যায় সফরকারীরা। যদিও শেষ হাসি হাসা হয়নি তাদের।
৩২৩ রানের বিশাল লক্ষ্যে ব্যাটিং করতে নামা জিম্বাবুয়ের শুরুটা মন মতো হয়নি। দলীয় ১৫ রানেই রেজিস চাকাভাকে ফিরিয়ে দেন শফিউল ইসলাম। কিছুক্ষণ পর ব্রেন্ডন টেলর রান আউট হয়ে ফিরলে বিপদ আরও বাড়ে সফরকারীদের। জিম্বাবুয়ের চাপ আরও বাড়ান মেহেদী হাসান মিরাজ। দলটির অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান শন উইলিয়ামসকে ফিরিয়ে দেন ডানহাতি এই অফ স্পিনার।
এর মাঝেও একপাশ আগলে রাখেন ওপেনার তিনাসে কামুনহুকামুই। অন্য প্রান্তে নিয়মিত ধারায় উইকেট পড়লেও ডানহাতি তরুণ এই ব্যাটসম্যান ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন। ৫১ রানের ইনিংস খেলেন তিনি।
এর পরের জুটিতেই জিম্বাবুয়ে যা লড়াই করেছে। সিকান্দার রাজা ও ১৯ বছর বয়সী ওয়েসলি মাধেভেরে ৮৭ রানের জুটি গড়েন। জয়ের সম্ভাবনা না জাগলেও এদের ব্যাটে এগিয়ে যেতে থাকে জিম্বাবুয়ে। মাধেভেরে ৫২ ও সিকান্দার রাজা ৬৬ রান করেন। এরপর শুরু হয় টিরিপানো ও মুতোম্বদজির ব্যাটিং শো।
প্রায় হেরে যাওয়া দলের হাল ধরে মাত্র ৪৪ বলে ৮০ রানের জুটি গড়েন তারা। যদিও শেষপর্যন্ত জয়ের মালা পড়া হয়নি তাদের। টিরিপানো ৫৫ ও মুতোম্বদজি ৩৪ রান করেন।
তাইজুল ইসলাম সর্বোচ্চ ৩টি উইকেট নেন। একটি করে উইকেট পান অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা, শফিউল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ। পাঁচ বছর পর জাতীয় দলের হয়ে ওয়ানডে খেলতে নামা আল আমিন হোসেন শেষ ওভারে গিয়ে একটি উইকেট পান।
এর আগে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশের শুরুটা ভালো ছিল না। রান আউটের শিকার হয়ে দলীয় ৩৮ রানে বিদায় নেন লিটন দাস। কিছুক্ষণ পর ভুল বোঝাবুঝির কারণে রান আউটে কাটা পড়েন নাজমুল হোসেন শান্তও। দলকে অবশ্য বিপদে পড়তে দেননি তামিম ও মুশফিকুর রহিম।
এই জুটি থেকে ৮৭ রান পায় বাংলাদেশ। দলীয় ১৫২ রানে আউট হওয়ার আগে ৫০ বলে ৬টি চারে ৫৫ রান করেন মুশফিক। মুশফিকের সঙ্গে ব্যাটিং করা অবস্থায়ই সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তামিম। ১০৬ বলে ১৪টি চারে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ১২তম সেঞ্চুরিতে পৌঁছান তিনি। ২ বছর পর (২৩ ম্যাচ) ওয়ানডেতে সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন বাঁহাতি এই ওপেনার।
মুশফিক ফিরলেও অন্যপ্রান্তে অবিচল তামিম নতুন সঙ্গী হিসেবে পান মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে। এই জুটি বাংলাদেশকে সবেচেয়ে বেশি রান এনে দেয়। তামিম ও মাহমুদউল্লাহ মিলে ১০৬ রান যোগ করেন। মাহমুদউল্লাহ ৪১ রান করে থামেন।
৯৫.২৮ স্ট্রাইক রেটে সেঞ্চুরি করলেও মুহূর্তেই রণমূর্তি ধারণ করেন তামিম। জিম্বাবুয়ের বোলারদের ওপর দিয়ে ঝড় বইয়ে দিতে শুরু করেন তিনি। মাত্র ৩০ বলে শেষ ৫৭ রান তোলেন তামিম। দলীয় ২৯২ রানে আউট হন তামিম। এরআগে ১৩৬ বলে ২০টি চার ও ৩টি ছক্কায় ১৫৮ রানের চোখ জুড়িয়ে দেওয়া এক ইনিংস খেলেন লম্বা সময় ধরে খারাপ সময়ের মধ্যে থাকা বাংলাদেশের অভিজ্ঞ এই ওপেনার।
তামিম বিদায় নেওয়ার পর বাংলাদেশের রান তোলার গতি কমে যায়। এক সময় সাড়ে তিনশর পথে থাকলেও বাংলাদেশের ইনিংস শেষ হয় ৩২২ রানে। মোহাম্মদ মিঠুন ১৮ বলে ৩টি চার ও একটি ছক্কায় অপরাজিত ৩২ রান করেন। জিম্বাবুয়ের কার্ল মুম্বা ও ডোনাল্ট টিরিপানো ২টি করে উইকেট নেন।
