বাংলাদেশের বিশ্বকাপ জার্সি উন্মোচন
বেজে উঠেছে বিশ্বকাপের দামামা। আগামী ১৭ অক্টোবর পর্দা উঠবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের। এর কদিন আগে বাংলাদেশ দলের জার্সি উন্মোচন করা হলো। ১১ অক্টোবর রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশের অফিসিয়াল জার্সি উন্মাচন করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক আকরাম খান, খালেদ মাহমুদ সুজন ও ব্র্যাক এন্টারপ্রাইজের ব্যববস্থাপনা পরিচালক তামারা হাসান আবেদ।
প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে এবারের বিশ্বকাপ জার্সি তৈরি করা হয়েছে। বাংলাদেশের জার্সির সামনের অংশ তৈরিতে যে সুতা ব্যবহার করা হয়েছে, তা রিসাইকেল জ্যাকার্ড ফেব্রিক নামে পরিচিত। যেটি প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে তৈরি। সামনে ও পেছনের অংশ আলাদা। পেছনের অংশ বানানো হয়েছে ম্যাশ ফেব্রিক থেকে। বাতাস প্রবাহের জন্য ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের গরমের কথা বিবেচনা করেই এমন জার্সি তৈরি করা হয়েছে।
বাংলাদেশের বিশ্বকাপ জার্সি নিয়ে ক্রিকেটমোদীদের আগ্রহের শেষ ছিল না। তবে গত শুক্রবার ওমান 'এ' দলের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচের জার্সি দেখে অনেকটাই ধারণা মিলেছিল। সোমবার দেখা গেল, ওটাই বাংলাদেশের বিশ্বকাপ জার্সি। সঙ্গে আছে অ্যাওয়ে আরেকটি জার্সি।
বাংলাদেশের জার্সি তৈরি করে স্পোর্টস অ্যান্ড স্পোর্টজ। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ এই প্রতিষ্ঠানটি এবারও বিশেষ জার্সি নিয়ে এসেছে। এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জার্সিটি হচ্ছে রেট্রো (যে জার্সি আগে একবার পরা হয়েছে) জার্সি। ২০০৪-২০০৫ সালের জার্সি থেকে ধারণা নিয়ে নতুন জার্সি তৈরি করা হয়েছে। মিল থাকলেও হুবুহু নয় জার্সির ডিজাইন।
বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের জন্য দুই ধরনের জার্সি তৈরি করা হয়েছে। একটাতে লাল এবং অন্যটাতে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে সবুজ রং। সবুজ রঙের জার্সিতে কাধে লাল রঙের বর্ডার রাখা হয়েছে। জার্সিটি অনেকটাই ২০০৫ সালে ন্যাটওয়েস্ট সিরিজের জার্সির মতো। আরেকটি জার্সিতে লালের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে, নিচের অংশে সবুজ রঙের কাজ করা হয়েছে।
জার্সি উন্মোচন শেষে আকরাম খান বলেন, 'আমরা যখন ক্রিকেট খেলতাম, তখন কোচরা আমাদের ব্যাট ও বল নিয়েই চিন্তা করতে বলতেন। বর্তমান ক্রিকেটে খাওয়া যেমন গুরুত্বপূর্ণ, জার্সিও তেমন গুরুত্বপূর্ণ। যত আরামদায়ক জার্সি পাওয়া যায়, ততই আমদের জন্য ভালো।'
ব্র্যাক এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তামারা হাসান আবেদ বলেন, 'বাংলাদেশ জাতীয় দলের জার্সি বিক্রয়ের স্বত্ব পেয়ে আড়ং পরিবারের সদস্য হিসেবে গর্ববোধ করছি। আমাদের জন্য এই অনুভূতি অসাধারণ। জাতীয় দলের জার্সি বিক্রয় থেকে আয় হলে ব্র্যাকের উন্নয়নে ব্যয় হবে। বাংলাদেশের জাতীয় দলের জন্য শুভ কামনা ব্র্যাক পরিবারের পক্ষ থেকে।'
এবারও বাংলাদেশের রেপ্লিকা জার্সি বিক্রি করার স্বত্ব পেয়েছে স্পোর্টস অ্যান্ড স্পোর্টস ডিজাইন। কয়েক বছর ধরে এই প্রতিষ্ঠানটিই তৈরি করে আসছে জাতীয় দলের জার্সি। আড়ংয়ের মাধ্যমে ক্রিকেটপ্রেমীরা জার্সি কেনার সুযোগ পাবেন।
