প্রথম সাক্ষাতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লড়াই করতে পারবে বাংলাদেশ?
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ড এবং সুপার টুয়েলভ রাউন্ড। দুটি পর্ব, ভিন্ন লড়াইয়ের দুটি মঞ্চ। দুটি পর্ব হলেও বাংলাদেশের শুরু প্রায় একইভাবে। প্রথম রাউন্ডের প্রথম ম্যাচে অপেক্ষাকৃত দুর্বল দল স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে হেরে যায় বাংলাদেশ। পরের দুই ম্যাচ জিতে কাটতে হয় সুপার টুয়েলভের টিকেট।
সুপার টুয়েলভেও অনেকটা তেমন শুরুই, মিলটা এখানে হারে। শ্রীলঙ্কা দুর্বল দল না হলেও এই হারটা বাংলাদেশকে বেশি জ্বালা দিয়েছে। হাতের মুঠোয় থাকা ম্যাচ নিজেদের ভুলে হেরেছে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দল। দুই পর্বেই হারে শুরু, এবার প্রথম রাউন্ডের মতো কি এখানেও দ্বিতীয় ম্যাচে ঘুরে দাঁড়াবে বাংলাদেশ?
এই প্রশ্নবোধকটা একটু বড়। কারণ আগের পর্বে বাংলাদেশের দ্বিতীয় প্রতিপক্ষ ছিল ওমান, আর এখানে শক্তিশালী ইংল্যান্ড। যাদের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ তো দূরের কথা, কখনও টি-টোয়েন্টিই খেলেনি বাংলাদেশ। ২০০৬ সাল থেকে টি-টোয়েন্টি খেলে আসা বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো এই ফরম্যাটে ইংলিশদের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে।
সুপার টুয়েলভে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে আজ বুধবার আবু ধাবিতে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হচ্ছেন সাকিব-মুশফিকরা। ম্যাচটি বাংলাদেশ সময় বিকাল ৪টায় শুরু হবে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হারের পর সমালোচনায় জেরবার দলটি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি প্রথম সাক্ষাতে কতোটা লড়াই করতে পারবে, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ থেকে যাচ্ছে।
টি-টোয়েন্টিতে ইংল্যান্ড এমনিতেই অন্যতম সেরা দল, র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দল তারা। বিশ্বকাপে তাদের শুরুটাও হয়েছে দাপুটে। প্রথম ম্যাচে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজকে মাত্র ৫৫ রানে অলআউট করে ৬ উইকেটের জয় তুলে নেয় ইয়ন মরগানের দল। আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে আছে দলটি। সেদিক থেকে মানসিকভাবে অনেক পিছিয়ে থেকেই আজকের ম্যাচ খেলতে নামতে হচ্ছে বাংলাদেশকে।
এরপরও ভালো করার প্রত্যাশায় বাংলাদেশ। ইংল্যান্ডের প্রায় সব ব্যাটসম্যান টি-টোয়েন্টি মেজাজেই ব্যাটিং করে থাকেন। এখানেই সুযোগ দেখছেন বাংলাদেশের পেস বোলিং কোচ ওটিস গিবসন। তার ভাষায়, 'খেলোয়াড়দের প্রতি বার্তা, অস্থির হওয়ার কিছু নেই। যত ভালো বলই করা হোক, ইংলিশ ব্যাটসম্যানরা মারবেই। এটা মাথায় রাখতে হবে। এটাই তাদের মানসিকতা। কিন্তু মেরে খেলা মানেই তারা উইকেট নেওয়ার সুযোগ দেবে, আমরা সেই সুযোগই কাজে লাগানোর চেষ্টা করব।'
ইংল্যান্ড অবশ্য সতর্ক। দলটির উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান জস বাটলার বলেছেন, 'দলটা শক্তিশালী। গত কয়েক বছর ওরা অনেক সাফল্য পেয়েছে, বিশেষ করে ঘরের মাঠে। এখন যে ধরনের কন্ডিশন থাকবে, সেটার সঙ্গে ওদের পরিচয় থাকার কথা। আমরা কঠিন চ্যালেঞ্জই প্রত্যাশা করছি। বাংলাদেশ ঘরের মাঠে খুবই ভালো দল। আবু ধাবির কন্ডিশন অনেকটা তাদের ঘরের মাঠের মতোই।'
