দেড় বছর পর টেস্টে জয়ের স্বাদ পেল বাংলাদেশ
একটি জয়, একটু উদযাপন। যে প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এসেছে এই জয়, তারা চিরচেনা। সামর্থ্যে অনেক পিছিয়ে। তাই হই-হুল্লোড় ডেকে উদযাপনের সুযোগ নেই। কিন্তু দিনেশেষে জয় তো জয়-ই! আর এই জয় তো হয়ে উঠেছিল রীতিমতো সোনার হরিণ। জিততে কেমন লাগে, টেস্ট ফরম্যাটে সেটা ভুলতেই বসেছিল বাংলাদেশ!
দুই-এক মাস পর নয়, প্রায় দেড় বছর পরে টেস্টে জয়ের স্বাদ পেল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। মাঝের এই সময়ে কেবল দুঃসময়ই ছায়া হয়ে পেছনে লেগে ছিল। হার হয়ে উঠেছিল অমোঘ নিয়তি। এই দেড় বছরে টানা ৬টি টেস্ট হেরেছে বাংলাদেশ। টেস্টের নবীন দল আফগানিস্তানও উপহার দিয়ে গেছে হারের ক্ষত, সেটাও ঘরের মাঠেই।
লম্বা সময় ধরে আলোর পথ খুঁজতে থাকা বাংলাদেশ অবশেষ সেই পথের দেখা পেল। মিরপুরে শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া টেস্টের পুরোটা সময় ব্যাটে-বলে রাজত্ব করে ইনিংস ব্যবধানে জয় তুলে নিল মুমিনুল হকের দল। একমাত্র টেস্টে জিম্বাবুয়েকে ইনিংস ও ১০৬ রানে হারাতে বাংলাদেশের সময় লেগেছে সাড়ে তিন দিন।
এই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২০০৫ সালে প্রথমবারের মতো টেস্ট জেতে বাংলাদেশ। এরপর ক্রিকেটের সবচেয়ে মর্যাদার এই ফরম্যাটে ২০ বছরের পথচলায় আরও ১২টি টেস্ট জিতেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ডের মতো পরাশক্তির বিপক্ষেও জয়ের স্বাদ মিলেছে। সেখানে এত বছর পর সেই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট জয় নিশ্চয়ই আহামরি সাফল্য নয়। তবু এটি স্বস্তি দিচ্ছে, দেখাচ্ছে আলোর পথে ওঠার নির্দেশনা।
এই ম্যাচসহ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১৭টি টেস্ট খেলেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে বাংলাদেশের জয় ৭টিতে। জিম্বাবুয়েও জিতেছে ৭ ম্যাচে। বাকি তিনটি ম্যাচ ড্র হয়। সব মিলিয়ে টেস্টে এটা বাংলাদেশের ১৪তম জয়। ১১৯টি টেস্ট খেলা বাংলাদেশ ৮৯টি ম্যাচেই হেরেছে। ড্র করেছে ১৬টি ম্যাচে।
বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে ২৬৫ রানেই গুটিয়ে যায় জিম্বাবুয়ের প্রথম ইনিংস। জবাবে টেস্ট অধিনায়ক মুমিনুল হকের সেঞ্চুরি (১৩২) ও ম্যাচ সেরা মুশফিকুর রহিমের ডাবল সেঞ্চুরিতে (২০৩) ৬ উইকেটে ৫৬০ রান তুলে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ। এই ইনিংস থেকেই মেলে ২৯৫ রানের লিড। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং করতে নেমে ১৮৯ রানে গুটিয়ে যায় সফরকারীরা।
তৃতীয় দিনের শেষ বিকেলে ৫ ওভার ব্যাটিং করতেই ২ উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে। চতুর্থ দিন সকালেও সুবিধা করতে পারেননি জিম্বাবুয়ের ব্যাটসম্যানরা। আগের দিনের অপরাজিত ব্যাটসম্যান কেভিন কাসুজাকে ফিরিয়ে ভাঙন ধরান তাইজুল ইসলাম। এরপর শুরু হয় ৫ উইকেট নেওয়া নাঈম হাসানের স্পিন ঘূর্ণি। ডানহাতি তরুণ এই স্পিনারের বোলিংয়ের মুখেই শেষ হয়ে যায় জিম্বাবুয়ের দ্বিতীয় ইনিংস।
নাঈমের শিকারে পরিণত হয়ে একে একে ফিরে যান ব্রেন্ডন টেলর, টিমিসেন মারুমা, এইন্সলে এনডিলভুরা। এর মাঝে তাইজুলই ছুড়তে থাকেন একেটা স্পিন বোমা। তার শিকারে পরিণত হন সিকান্দার রাজা, রেজিস চাকাভারা। টেস্ট ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বারের মতো ৫ উইকেট পেলেন নাঈম। প্রথম ইনিংসেও ৪ উইকেট নেন তরুণ এই স্পিনার। ম্যাচে (দুই ইনিংস মিলিয়ে) তাইজুলের শিকার ৬ উইকেট। আবু জায়েদ রাহি পেয়েছেন ৪ উইকেট। আরেক পেসার এবাদত হোসেন উইকেটশূন্য থেকে গেছেন।
দলের দুঃসময়ের মাঝেও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছেন জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক ক্রেইগ আরভিন, সিকান্দার রাজা ও টিমিসেন মারুমা। প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করা আরভিন দ্বিতীয় ইনিংসে ৪৩ রান করে রান আউটে কাটা পড়েন। রাজা ৩৭ ও মারুমা ৪১ রান করেন।
সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড :
জিম্বাবুয়ে প্রথম ইনিংস: ১০৬.৩ ওভারে ২৬৫/১০ (আরভিন ১০৭, মাসভাউরে ৬৪; রাহি ৪/৭১, নাঈম ৪/৭০, তাইজুল ২/৯০)।
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ১৫৪ ওভারে ৫৬০/৬, ডিক্লেয়ার্ড (তামিম ৪১, শান্ত ৭১, মুমিনুল ১৩২, মুশফিক ২০৩*; এইন্সলে এনডিলভু ২/১৭০ টিরিপানো ১/৯০)।
জিম্বাবুয়ে দ্বিতীয় ইনিংস: ৫৭ ওভারে ১৮৯/১০ (আরভিন ৪৩, রাজা ৩৭, মারুমা ৪১; নাঈম ৫/৮২, তাইজুল, ৪/৭৮)।
ফল: বাংলাদেশ ইনিংস ও ১০৬ রানে জয়ী।
ম্যাচ সেরা: মুশফিকুর রহিম (বাংলাদেশ)।
