তামিম-লিটনের পর সৌম্যর তাণ্ডবে বাংলাদেশের রান উৎসব
রানের ফোয়ারা বয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও লিটন দাসের ব্যাটে। ফরম্যাট বদলালেও একই ছন্দে রয়ে গেছেন এই দুই ব্যাটসম্যান। তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে দুটি করে সেঞ্চুরি করা তামিম ও লিটন টি-টোয়েন্টিতেও ব্যাট হাতে শাসন করলেন। এই দুজনের সঙ্গে সৌম্য সরকারের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে এবার টি-টোয়েন্টিতে রান বন্যা বইয়ে দিল বাংলাদেশ।
মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টি ৩ উইকেটে ২০০ রানের বড় সংগ্রহ গড়েছে বাংলাদেশ। টি-টোয়েন্টিতে এটা বাংলাদেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। ওয়ানডে সিরিজের মতো এখানেও বাংলাদেশকে পথ দেখিয়েছেন তামিম ও লিটন। সঙ্গে ছিল সৌম্য সরকারের তাণ্ডব। সব মিলিয়ে আবারও জিম্বাবুয়ের বোলারদের পরীক্ষা নিলো বাংলাদেশ।
উদ্বোধনী জুটিতে ৯২ রান যোগ করেন তামিম ও লিটন। টি-টোয়েন্টিতে এটাই বাংলাদেশের সেরা উদ্বোধনী জুটি। যে কোনো উইকেটে এটা বাংলাদেশের অষ্টম সেরা জুটি। সিলেটে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে ২৯২ রানের বিশাল জুটি গড়ে সব রেকর্ড চুরমার করে দিয়েছিলেন বাংলাদেশের এই দুই ওপেনার।
সোমবার টস হেরে আগে ব্যাটিং করতে নেমে দাপুটে শুরু করেন তামিম ও লিটন। দুজনই ঝড়ের গতিতে ব্যাট চলাতে শুরু করেন। জিম্বাবুয়ের কোনো বোলাররই তাদের সামনে সুবিধা করতে পারছিলেন না। পাওয়ার প্লের ছয় ওভারেই স্কোরকার্ডে ৫৯ রান যোগ করেন তামিম-লিটন। তামিম একটু দেখেশুনে খেললেও লিটন খেলতে থাকেন টর্নেডো স্টাইলে।
জিম্বাবুয়ের বোলারদের বল মোয়া বানিয়ে একের পর এক চার-ছক্কা হাঁকাতে থাকেন তামিম-লিটন। ৮ ওভারে দলকে ৭৯ রানে পৌঁছে দেন এ দুজন। বাংলাদেশ তখন দলীয় সেঞ্চুরির কাছাকাছি। এমন সময় ছক্কা মারতে গিয়ে শন উইলিয়ামসের হাতে ধরা পড়েন তামিম। ফেরার আগে ৩১ বলে ৪১ রান করেন অভিজ্ঞ বাঁহাতি এই ওপেনার।
এরপর লিটনও আর বেশিক্ষণ ব্যাট চালাতে পারেননি। টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের তৃতীয় হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করা ডানহাতি এই ড্যাশিং ওপেনার ৩৯ বলে ৫টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৫৯ রান করে আউট হন। এরপর রানচাকা ঘোরানোর দায়িত্ব নেন সৌম্য সরকার ও মুশফিকুর রহিম।
মুশফিক ১৭ রান করে থামলেও নব বিবাহিত সৌম্য মারকাটারি ব্যাটিং করেছেন। অন্য প্রান্তে অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ থাকলেও মূলত সৌম্যই স্কোরকার্ডকে সমৃদ্ধ করেছেন। বাঁহাতি এই মারকুটে ব্যাটসম্যান ৩০ বলে ৪টি চার ও ৩টি ছক্কায় টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। এই ফরম্যাটে ২১ ইনিংস পর হাফ সেঞ্চুরির দেখা পেলেন তিনি।
মাত্র ৩২ বলে ৪টি চার ও ৫টি ছক্কায় চোখ ধাঁধানো ৬২ রান করেন অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়া সৌম্য। মাহমুদউল্লাহ ৯ বলে একটি চারে ১৪ রানে অপরাজিত থাকেন। জিম্বাবুয়ের সিকান্দার রাজা, ক্রিস এমপফু ও ওয়েসলি মাধেভেরে একটি করে উইকেট নেন।
