ডাবল সেঞ্চুরিতে ভিভ রিচার্ডস-জয়সুরিয়াদের পাশে মুশফিক
'কুহু কুহু শোনা যায় কোকিলের কুহুতান, বসন্ত এসে গেছে, বসন্ত এসে গেছে।' শীতের জীর্ণতা শেষে ফুলে ফুলে সেজে উঠেছে প্রকৃতি। পলাশ-শিমুল-কৃষ্ণচূড়ার ডালে ডালে নতুন পাতা উঁকি দিয়ে বলে যাচ্ছে, ঋতুরাজ বসন্ত এসে গেছে। বসন্তের ছোঁয়া লেগেছে মুশফিকুর রহিমের ব্যাটেও। দুঃসময়কে ছুটিতে পাঠিয়ে নব কিশলয়ের সুবাতাস বয়ে এনেছেন বাংলাদেশের উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান।
প্রথমে সেঞ্চুরি, এরপর সেটিকে ডাবল সেঞ্চুরিতে পরিণত করে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেলেন মুশফিক। টেস্টে এখন তিন, তিনটি সেঞ্চুরির মালিক তিনি। এমন কীর্তিতে তার নাম বসে গেছে কিংবদন্তি স্যার ভিভ রিচার্ডস, সনাৎ জয়সুরিয়া, স্টিফেন ফ্লেমিংদের পাশে।
এই কিংবদন্তি ব্যাটসম্যানদের সবার নামের পাশে আছে তিনটি করে টেস্ট ডাবল সেঞ্চুরি। তালিকাটা অবশ্য বেশ লম্বা। ক্রিকেট ইতিহাসে মুশফিকসহ মোট ১৪জন তিনটি করে ডাবল সেঞ্চুরি করেছেন। এলিট ব্যাটসম্যানদের এই তালিকায় আরও আছেন ক্রিস গেইল, গ্যারি কার্স্টেন, জাস্টিন ল্যাঙ্গার, স্টিভেন স্মিথরাও।
দেশের হয়েও বড় কীর্তি গড়া হয়ে গেছে মুশফিকের। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এই টেস্ট শুরুর আগে টেস্টে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ছিলেন তামিম ইকবাল। ২০৩ রানের হার না মানা ইনিংস খেলার পথে তামিমকে ছাড়িয়ে গেছেন মুশফিক। টেস্ট মুশফিকের রান ৪ হাজার ৪১৩ রান। দীর্ঘদিন শীর্ষস্থানে থাকা তামিমের রান ৪ হাজার ৪০৫।
মিরপুরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ব্যাটিং করতে নেমে বাংলাদেশের শুরুটা ভালো না হলেও সেটা ভুলিয়ে দেন মুমিনুল হক ও মুশফিকুর রহিম। নেতার মতোই খেলে সেঞ্চুরি তুলে নেন বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক মুমিনুল। তিনি ১৩২ রান করে ফিরলেও মুশফিক ছুটে গেছেন রেকর্ডের পথে।
মুমিনুলের বিদায়ে পর বাংলাদেশের আরও দুজন ব্যাটসম্যান বিদায় নেন। কিন্তু একপাশ আগলে খেলে যেতে থাকেন মুশফিক। ১৬১ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করা এই ব্যাটসম্যান ডাবল সেঞ্চুরির পথ মাড়াতে আরও বেশি ধীর-স্থির ছিলেন। উইকেটকিপিং ছাড়ার পর এটা মুশফিকের প্রথম সেঞ্চুরি।
শুরুতে টেস্ট ক্যারিয়ারের সপ্তম সেঞ্চুরি করে মোহাম্মদ আশরাফুলকে পেছনে ফেলেন মুশফিক। একই ইনিংসে তামিমকে ছাড়ানোর পাশপাশি কিংবদন্তি ক্রিকেটারদের পাশেও নিজের নামটি বসিয়ে নিলেন বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইন আপের অন্যতম সেরা এই ভরসা।
সাত সেঞ্চুরির চারটিই দেশের বাইরে করেছেন মুশফিক। ওই চার সেঞ্চুরি অধিনায়ক থাকা অবস্থায় করেছেন তিনি। অধিনায়কত্ব না করে বাকি যে তিনটি সেঞ্চুরি করেছেন, সবগুলোই দেশের বাইরে। অর্থাৎ, নেতা মুশফিক বিদেশের মাটিতেই বেশি সাবলীল!
বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরিও মুশফিকের। ২০১৩ সালে গলে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২০০ রানের ইতিহাস গড়া ইনিংসটি আসে তার ব্যাট থেকে। এরপর বাংলাদেশের দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে ডাবল সেঞ্চুরি করেন তামিম। ২০১৫ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে ২০৬ রানের ইনিংস খেলেন এই বাঁহাতি।
পিছিয়ে থাকেননি সাকিব আল হাসান। ২০১৭ সালে নিউজিল্যান্ড সফরে বাংলাদেশের তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে ডাবল সেঞ্চুরি করেন দেশসেরা এই অলরাউন্ডার। তার ব্যাট থেকে আসে ২১৭ রানের ঝলমলে এক ইনিংস।
এরপর ডাবল সেঞ্চুরি করার গল্পে একটিই নাম, সেটা মুশফিকের। ২০১৮ সালে মিরপুরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে নিজের টেস্ট ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ডাবল সেঞ্চুরি করেন তিনি। খেলেন ২১৯ রানের ইনিংস। এখন পর্যন্ত টেস্টে এটাই বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের ইনিংস।
দুই বছর পর সেই জিম্বাবুয়েকে পেয়েই তরবারিতে পরিণত হলো মুশফিকের ব্যাট। ৩১৫ বলে ডাবল সেঞ্চুরিতে পৌঁছে যান তিনি। সেঞ্চুরি করে সাদামাটা উদযাপন করলেও ২০০ ছোঁয়া মুশফিক এবার আনন্দ প্রকাশ করলেন ক্ষ্যাপাটে স্টাইলে।
টেস্ট ক্রিকেটে এটা বাংলাদেশের পঞ্চম ডাবল সেঞ্চুরি। মুশফিক ডাবল সেঞ্চুরির করার পরই ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ। ৩১৮ বলে ২৮টি চারে ২০৩ রানে অপরাজিত থাকেন মুশফিক।
মুমিনুল ও মুশফিকের অসাধারণ ব্যাটিংয়ে রান পাহাড়ে উঠেছে বাংলাদেশ। ৬ উইকেটে ৫৬০ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করেছেন অধিনায়ক মুমিনুল। প্রথম ইনিংসেই ২৯৫ রানের লিড পেয়েছে বাংলাদেশ।
