টি-টোয়েন্টিতেও দাপুটে জয়
বাংলাদেশের জয়রথ ছুটে চলেছে। সব ফরম্যাটেই বিজয়ের হাসি হাসছে বাংলাদেশ। একমাত্র টেস্ট এবং ওয়ানডে সিরিজ জয়ের পর টি-টোয়েন্টিতেও দাপুটে শুরু করল বাংলাদেশ। দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে জিম্বাবুয়েকে ৪৮ রানে হারিয়েছে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দল।
সোমবার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে আগে ব্যাটিং করে ৩ উইকেটে ২০০ রানের বিশাল সংগ্রহ গড়ে বাংলাদেশ। টি-টোয়েন্টিতে এটা বাংলাদেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। ওয়ানডে সিরিজের মতো এখানেও বাংলাদেশকে পথ দেখিয়েছেন তামিম ইকবাল ও লিটন দাস। সঙ্গে ছিল ম্যাচ সেরা সৌম্য সরকারের তাণ্ডব।
জবাবে শুরু থেকেই উল্টো পথে হাঁটা জিম্বাবুয়ে খুব বেশি পথ পাড়ি দিতে পারেনি। ১৯ ওভারে ১৫২ রানেই শেষ হয় সফরকারীদের ইনিংস। এই জয়ে দুই ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ১-০ ব্যবেধানে এগিয়ে গেল মাহমুদউল্লাহর দল। সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ ম্যাচটি ১১ মার্চ মিরপুরেই অনুষ্ঠিত হবে।
২০১ রানের বিশাল লক্ষ্য। তেড়েফুঁরে শুরু করা ছাড়া উপায় ছিল না জিম্বাবুয়ের সামনে। কিন্তু রানের দিকে মন দিতে গিয়েই শুরুতেই বিপদ ডেকে আনে তারা। ৩০ রানের মধ্যেই বেন্ডন টেলর, ক্রেইগ আরভিনদের ফিরিয়ে দেন শফিউল ইসলাম ও মুস্তাফিজুর রহমান।
শুরুতেই উইকেট হারানোর চাপ আর কাটিয়ে উঠতে পারেনি সফরকারীরা। দলীয় ৩৭ রানের মাথায় রান আউট হয়ে থামেন ওয়েসলি মাধেভেরে। জিম্বাবুয়ের ইনিংসে সবচেয়ে বড় আঘাতটি হেনেছেন আমিনুল ইসলাম বিপ্লব। ইনিংসের নবম ওভারে টানা দুই বলে তিনশে কামুনহুকামুই ও শন উইলিয়ামসকে ফিরিয়ে দেন বাংলাদেশের তরুণ এই লেগ স্পিনার।
জিম্বাবুয়ের হয়ে সর্বোচ্চ ২৮ রান করেন কামুনহুকামুই। অধিনায়ক উইলিয়ামস ২০, সিকান্দার রাজা ১০ ও রিচমন্ড মুতুম্বামি ২০ রান করেন। এ ছাড়া শেষের দিকে ঝড়ো গতির ২৫ রান করেন কার্ল মুম্বা। বাংলাদেশের পক্ষে ৩টি করে উইকেট নেন আমিনুল ইসলাম বিপ্লব ও মুস্তাফিজুর রহমান।
এরআগে ব্যাটিংয়ে নেমে উদ্বোধনী জুটিতে ৯২ রান যোগ করেন তামিম ও লিটন। টি-টোয়েন্টিতে এটাই বাংলাদেশের সেরা উদ্বোধনী জুটি। যে কোনো উইকেটে এটা বাংলাদেশের অষ্টম সেরা জুটি। সিলেটে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে ২৯২ রানের বিশাল জুটি গড়ে সব রেকর্ড চুরমার করে দিয়েছিলেন বাংলাদেশের এই দুই ওপেনার।
সোমবার টস হেরে আগে ব্যাটিং করতে নেমে দাপুটে শুরু করেন তামিম ও লিটন। দুজনই ঝড়ের গতিতে ব্যাট চলাতে শুরু করেন। জিম্বাবুয়ের কোনো বোলাররই তাদের সামনে সুবিধা করতে পারছিলেন না। পাওয়ার প্লের ছয় ওভারেই স্কোরকার্ডে ৫৯ রান যোগ করেন তামিম-লিটন। তামিম একটু দেখেশুনে খেললেও লিটন খেলতে থাকেন টর্নেডো স্টাইলে।
জিম্বাবুয়ের বোলারদের বল মোয়া বানিয়ে একের পর এক চার-ছক্কা হাঁকাতে থাকেন তামিম-লিটন। ৮ ওভারে দলকে ৭৯ রানে পৌঁছে দেন এ দুজন। বাংলাদেশ তখন দলীয় সেঞ্চুরির কাছাকাছি। এমন সময় ছক্কা মারতে গিয়ে শন উইলিয়ামসের হাতে ধরা পড়েন তামিম। ফেরার আগে ৩১ বলে ৪১ রান করেন অভিজ্ঞ বাঁহাতি এই ওপেনার।
এরপর লিটনও আর বেশিক্ষণ ব্যাট চালাতে পারেননি। টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের তৃতীয় হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করা ডানহাতি এই ড্যাশিং ওপেনার ৩৯ বলে ৫টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৫৯ রান করে আউট হন। এরপর রানচাকা ঘোরানোর দায়িত্ব নেন সৌম্য সরকার ও মুশফিকুর রহিম।
মুশফিক ১৭ রান করে থামলেও নব বিবাহিত সৌম্য মারকাটারি ব্যাটিং করেছেন। অন্য প্রান্তে অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ থাকলেও মূলত সৌম্যই স্কোরকার্ডকে সমৃদ্ধ করেছেন। বাঁহাতি এই মারকুটে ব্যাটসম্যান ৩০ বলে ৪টি চার ও ৩টি ছক্কায় টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। এই ফরম্যাটে ২১ ইনিংস পর হাফ সেঞ্চুরির দেখা পেলেন তিনি।
মাত্র ৩২ বলে ৪টি চার ও ৫টি ছক্কায় চোখ ধাঁধানো ৬২ রান করেন অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়া সৌম্য। মাহমুদউল্লাহ ৯ বলে একটি চারে ১৪ রানে অপরাজিত থাকেন। জিম্বাবুয়ের সিকান্দার রাজা, ক্রিস এমপফু ও ওয়েসলি মাধেভেরে একটি করে উইকেট নেন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ২০০/৩ (তামিম ৪১, লিটন ৫৯, সৌম্য ৬২*; রাজা ১/৩১, এমপফু ১/৫৮)।
জিম্বাবুয়ে: ১৯ ওভারে ১৫২/১০ (কামুনহুকামুই ২৮, শন উইলিয়ামস ২০, টিরিপানো ২০, মুম্বা ২৫; মুস্তাফিজ ৩/৩২, বিপ্লব ৩/৩৪)।
ফল: বাংলাদেশ ৪৮ রানে জয়ী।
ম্যাচ সেরা: সৌম্য সরকার।
