ক্রিকেটারদের ওপর থেকে চাপ কমাতে বলছেন মাশরাফি
তিনটি করে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি খেলতে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি নিউজিল্যান্ডে গেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। সাতদিনের আইসোলেশন শেষে বৃহস্পতিবার থেকে জিম ও গ্রুপে ভাগ হয়ে অনুশীলন শুরু করেছেন বাংলাদেশে ক্রিকেটাররা। আগামী ২০ মার্চ প্রথম ওয়ানডে দিয়ে নিউজিল্যান্ড সফর শুরু হবে তামিম, মুশফিকদের।
বরাবরের মতে এবারও যে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধ কন্ডিশনে কঠিন পরীক্ষা দিতে হবে, তা বাংলাদেশ দলের সবারই জানা। বিষয়টি ভালো করে জানেন জাতীয় দলের সাবেক ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজাও। যে দেশে কন্ডিশন, অতীত ফল; সবকিছুই বিপক্ষে, সেখানে দলের ক্রিকেটারদের ওপর অপ্রয়োজনীয় চাপ প্রয়োগ করা উচিত নয় বলে মনে করেন মাশরাফি।
চাপ কমিয়ে দিলে, ক্রিকেটাররা মন খুলে খেলতে পারলে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে ভালো ফল পাওয়া সম্ভব বলে মনে করেন মাশরাফি। নিউজিল্যান্ড সফরসহ দুটি ওয়ানডে সিরিজে দলের বাইরে থাকা অভিজ্ঞ এই পেসার শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অনুষ্ঠানে গিয়ে এসব কথা বলেন।
ওয়ানডে অধিনায়ক হিসেবে তামিম ইকবালের এটাই প্রথম সফর। তামিমের কাছ থেকে কেমন মনোভাব আশা করছেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে মাশরাফি বলেন, 'আমরা সবাই জানি নিউজিল্যান্ড কঠিন প্রতিপক্ষ। তার সাথে সাকিব নেই, কঠিনই হতে যাচ্ছে। তবে যাওয়ার আগে তামিম যেভাবে কথা বলেছে, সেটা খুবই ইতিবাচক। আমার বিশ্বাস যে ভালো করবে।'
মাশরাফির মতো অনেকেরই আশা নিউজিল্যান্ড সফরে ভালো করবে বাংলাদেশ। বিসিবি থেকে শুরু করে, নির্বাচক, ভক্তদের সবারই প্রত্যাশা আছে দলকে নিয়ে। এখানেই প্রত্যাশার লাগামটা টেনে রাখতে বলছেন ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ উইকেটের মালিক। মাশরাফি বলছেন, চাপ না দিয়ে দলকে সবাই যেন সমর্থন দেন।
ওয়ানডের সফলতম অধিনায়কের ভাষায়, 'সবাই আশা করছে বাংলাদেশ দল নিউজিল্যান্ডে ভালো করবে। কিন্তু আমার কাছে মনে হয় না দলকে অপ্রয়োজনীয় বেশি চাপ দেওয়া উচিত। আমরা সবাই জানি সেখানে কঠিন কন্ডিশন। আমরা যদি এখান থেকে ভালোভাবে সাপোর্ট দিই, সাপোর্টের অবশ্যই বিভিন্ন ধরন আছে। তো ওই চাপটা থেকে যদি ওদের মুক্ত করে দেই, তাহলে আমি নিশ্চিত যে, তারা ভালো খেলতে পারবে।'
'জয়-পরাজয় অবশ্যই আছে, আমার বিশ্বাস ওরা ভালো করবে যদি আমরা চাপটা ওদের ওপর থেকে কমিয়ে দেই। আমার কাছে মনে হয় যে টিম ওখানে আছে, যথেষ্ট সামর্থ্যবান তারা ভালো খেলার জন্য, কিন্তু সবাই তো গোনায় ধরে আপনি ম্যাচ জিতছেন না হারছেন। সেই সামর্থ্যও আছে, কিন্তু চাপ কমাতে হবে আর কি।' যোগ করেন মাশরাফি।
বলা হয় নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশন পেসারদের অনুকূলে থাকে। কিন্তু মাশরাফি বলছেন ভিন্ন কথা। সাবেক ওয়ানডে অধিনায়ক বলছেন, 'ওখানে পেস উইকেট থাকবে? ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া গেলে সবাই এক তরফা কথা বলে যে সিমিং কন্ডিশন। কিন্তু এগুলো তো আরও ২০ বছর আগে শেষ হয়ে গেছে। এখন ফ্ল্যাট উইকেট। বাংলাদেশে ২৫০ রান করা কঠিন হয়, ওখানে ৩০০-৩৫০ করে আবার চেইজও হয়ে যায়। তো ওইখানে পেসারদের জন্য আরও কঠিন।'
বিরুদ্ধ কন্ডিশন হলেও বাংলাদেশের ভালো করার সামর্থ্য আছে। তবে মাশরাফি আবারও উল্লেখ করলেন চাপ কমানোর কথা, 'আমি আগেও বললাম যে, প্রতিটি খেলোয়াড়ের ওপর থেকে চাপ কমিয়ে দিতে হবে। ওরা মন খুলে যদি খেলাটা খেলতে পারে, কোনো চাপ না থাকে, তাহলে অবশ্যই ভালো খেলবে। আমাদের সমস্যা হচ্ছে আমরা খেলোয়াড়দের ওপর অপ্রয়োজনীয় চাপ সৃষ্টি করে দেই। ওই চাপটা কমিয়ে আনতে হবে ক্রিকেট বোর্ড থেকে, নির্বাচক ও দর্শকদের দিক থেকে। তাদেরকে সমর্থন করাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ, আশা করি সমর্থন করলে ওরা ভালো খেলবে।'
আপাতত জাতীয় দলে বিবেচনা করা হচ্ছে না মাশরাফিকে। ঘরোয়া ক্রিকেট খেলা পরিকল্পনার কথা জানতে চাইলে মাশরাফি বলেন, 'আমি এখনও চিন্তাভাবনা করিনি, এখনও প্রস্তুতি নেই। ঘরোয়া ক্রিকেট তো খেলছিই। করোনার জন্য যেহেতু খেলাধুলা হচ্ছে না, তো আমার মনে হয় না কারও কাছেই কোনো পরিকল্পনা আছে। সামনে ঘরোয়া ক্রিকেট শুরু হবে, যেহেতু এনসিএল হবে। তারপর দেখা যাক।'
