যুক্তরাষ্ট্রকে ভূখণ্ড বা আকাশসীমা ব্যবহারের সুযোগ দিলে সেদেশের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার অধিকার আছে ইরানের: তেহরান
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকার এবং কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
তেহরান একই সঙ্গে কুয়েত ও বাহরাইনের শাসকদের সরাসরি দায়ী করেছে, কারণ তাদের ভূখণ্ড ও আকাশসীমা ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে বলে অভিযোগ করেছে ইরান।
মন্ত্রণালয়টি বলেছে, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো হামলা পরিচালনায় সহায়তা করবে এমন কোনো দেশের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার অধিকার ইরানের আছে।
এই বিবৃতি এমন এক ঘটনার পর এসেছে, যা সাম্প্রতিক মাসগুলোতে উপসাগরীয় অঞ্চলে সংঘাত বৃদ্ধির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
পরে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
এসব লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে কুয়েতের আলি আল সালেম বিমানঘাঁটিও ছিল।
ইরানি কর্মকর্তারা বলছেন, হরমুজ প্রণালির কাছে একটি তেলবাহী জাহাজের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ এবং কেশম দ্বীপে পরিচালিত সামরিক অভিযানের প্রতিশোধ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে।
আঞ্চলিক উত্তেজনা দ্রুত কুয়েতের সীমানা ছাড়িয়ে ছড়িয়ে পড়ে।
বাহরাইন, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত হামলার খবর জানিয়েছে।
অন্যদিকে মার্কিন সেনা সদস্যরা অবস্থান করছেন এমন একাধিক স্থাপনায় বিমান হামলার সতর্কসংকেত বেজে উঠেছে।
আসন্ন হামলার জবাবে সামরিক বাহিনী ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করলে কুয়েত, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ সাময়িকভাবে সব ধরনের উড়োজাহাজ চলাচল স্থগিত করে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের সম্ভাব্য হামলার জবাবে মার্কিন বাহিনী 'আত্মরক্ষামূলক' অভিযান পরিচালনা করেছে।
এই অভিযানের অংশ হিসেবে কেশম দ্বীপের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুর ওপরও হামলা চালানো হয়েছে বলে তারা জানিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। তেহরান এসব হামলাকে আগ্রাসনের কর্মকাণ্ড হিসেবে বর্ণনা করেছে।
একই সঙ্গে ইরান সতর্ক করে বলেছে, ইরানের ভূখণ্ডের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান পরিচালনায় সহায়তা করবে এমন যেকোনো দেশ পরিণতির মুখোমুখি হতে পারে।
দিন যত যাচ্ছে, যুদ্ধবিরতি ততই দুর্বল বলে মনে হচ্ছে। তবে সংঘাত পূর্ণমাত্রায় আবার শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে কম বলে ধারণা করা হচ্ছে। আলোচনার অচলাবস্থা দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
