ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা চূড়ান্ত, খামেনির উত্তরসূরিদেরও লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি ইসরায়েলের
সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বাংলাদেশিসহ নিহত ২, আহত ১২
সৌদি আরবের মধ্যাঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে দুজন নিহত এবং ১২ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজন বাংলাদেশি, অন্যজন ভারতের নাগরিক।
দেশটির সিভিল ডিফেন্স এজেন্সি এক্সে এক পোস্টে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। তবে নিহতদের বিস্তারিত পরিচয় জানা যায়নি।
ইরানের রেভোল্যুশনারি গার্ড জানিয়েছে, সৌদি আরবের আল-খার্জসহ যেসব স্থানে মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, সেখানে তারা রাডার ব্যবস্থা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছিল।
ট্রাম্প বললেন, তার অনুমোদন ছাড়া ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা 'বেশি দিন টিকতে পারবেন না'
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনে যদি তার অনুমোদন নেওয়া না হয়, তাহলে সেই নেতা 'বেশি দিন টিকতে পারবেন না'।
এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। ট্রাম্প বলেন, "তার বিষয়ে আমাদের থেকে অনুমোদন নিতে হবে। যদি তিনি আমাদের কাছ থেকে অনুমোদন না পান, তবে তিনি বেশিদিন টিকতে পারবেন না।"
নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির উত্তরসূরি নির্বাচনের জন্য সংশ্লিষ্ট ইরানি ধর্মীয় সংস্থা ভোট দিয়েছে বলে জানা গেছে এবং শীঘ্রই একটি নাম ঘোষণা করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপ 'অনৈতিক ও অবৈধ': ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং ইরানের সামরিক পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছেন ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর বিন হামাদ আলবুসাইদি।
এক্সে এক পোস্টে তিনি বলেছেন, তিনি আজ তার আরব লীগের রাষ্ট্রগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সাথে একটি ভার্চুয়াল বৈঠকে যোগ দিতে পেরে ''সন্তুষ্ট''।
তিনি লিখেছেন, ''ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের গৃহীত পদক্ষেপ অনৈতিক এবং অবৈধ''।
''কিন্তু প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে ইরানের প্রতিশোধও অত্যন্ত দুঃখজনক এবং অগ্রহণযোগ্য। আমি সকল পক্ষকে সংযম, যুদ্ধবিরতি এবং কূটনীতিতে জরুরিভাবে ফিরে আসার আহ্বান জানাচ্ছি'', লিখেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
হিজবুল্লাহকে অস্ত্র 'সমর্পণ' করার আহ্বান লেবানন সরকারের
বেশ কয়েকটি আরব দেশে ইরানের হামলার নিন্দা জানিয়েছেন লেবাননের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইউসুফ রাজি। সেই সঙ্গে তিনি বলেছেন, হিজবুল্লাহর সামরিক কর্মকাণ্ড লেবানন রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করে না।
এক্সে এক পোস্টে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, লেবানন উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্রগুলোর পাশাপাশি জর্ডান এবং ইরাকে ইরানের হামলার "তীব্র নিন্দা" জানায়।
লেবাননে ইসরায়েলের বোমাবর্ষণের বিষয়ে তিনি বলেন, হিজবুল্লাহ লেবাননের জাতীয় স্বার্থকে উপেক্ষা করেছে। এ সময় ইউসুফ রাজি হিজবুল্লাহকে অবিলম্বে তাদের অস্ত্র সমর্পণ করার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন।
ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান: ইসরায়েলি সেনাবাহিনী
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইরান থেকে ইসরায়েলি ভূখণ্ডের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে এবং বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেগুলো প্রতিহত করতে কাজ করছে।
এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এ কথা জানিয়েছে। তারা বলেছে, ইরান থেকে তারা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ শনাক্ত করেছে এবং হুমকি মোকাবিলায় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করেছে।
তেহরানের বিভিন্ন জায়গায় বড় ধরনের বিস্ফোরণের শব্দ
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, রাজধানী তেহরানের বেশ কয়েকটি জায়গায় প্রচণ্ড বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
ইরানের বেসামরিক নাগরিকদের ঘরে থাকার আহ্বান
ইরানি বাহিনী ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের জন্য ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা ব্যবহার করছে দাবি করে ইরানের বেসামরিক নাগরিকদের ঘরে থাকার আহ্বান জানিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।
এক বিবৃতিতে এটি বলেছে, ''এই বিপজ্জনক সিদ্ধান্ত ইরানের সব বেসামরিক নাগরিকের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।
সেন্টকম'র কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার বলেন, "ইরানের সন্ত্রাসী সরকার উপসাগরীয় অংশীদারদের ওপর আক্রমণ করে বেসামরিক জীবনকে স্পষ্টতই উপেক্ষা করছে এবং তাদের নিজস্ব জনগণের নিরাপত্তার সাথে আপস করছে।"
'কৌশলগত অংশীদারিত্ব': রাশিয়ার সাথে সামরিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে, বলছে ইরান
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, তেহরান এবং মস্কোর মধ্যে সামরিক সহযোগিতা চলমান এবং এটি নতুন নয়। তিনি এটিকে দীর্ঘস্থায়ী কৌশলগত অংশীদারিত্বের অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
রাশিয়ার কাছ থেকে ইরান সাহায্য পাচ্ছে কি না, তা জানতে চাইলে আরাগচি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, দুই দেশ বছরের পর বছর ধরে সামরিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে।
"রাশিয়ার সাথে আমাদের কৌশলগত অংশীদারিত্ব রয়েছে। ইরান এবং রাশিয়ার মধ্যে সামরিক সহযোগিতা নতুন কিছু নয়। এটি কোনো গোপন বিষয় নয়। এটি অতীতে ছিল এবং এখনও আছে এবং ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে", বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
রাশিয়া ইরানকে মার্কিন লক্ষ্যবস্তু সনাক্ত করতে সাহায্য করছে কি না জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, তার কাছে বিস্তারিত সামরিক তথ্য নেই। তবে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক শক্তিশালী বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।
মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা 'আত্মরক্ষার বৈধ অধিকার': ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুগুলোতে ইরানের হামলাকে 'আত্মরক্ষার বৈধ অধিকার' বলে অভিহিত করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের 'চাপিয়ে দেওয়া' যুদ্ধের জবাবেই তেহরান এসব পাল্টা হামলা চালাচ্ছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আরাগচি বলেন, 'ইরান এই সংঘাত বেছে নেয়নি, তারা কেবল আত্মরক্ষার্থে কাজ করছে। তিনি এই যুদ্ধকে "বিনা উসকানিতে অন্যায় এবং অবৈধ" হিসেবে বর্ণনা করেন।'
আরাগচি স্পষ্ট করে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি, স্থাপনা এবং সম্পদগুলো ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলার লক্ষ্যবস্তু। এমনকি এই স্থাপনাগুলো যদি প্রতিবেশী কোনো দেশের ভূখণ্ডেও অবস্থিত হয়, তবুও সেগুলো হামলার আওতামুক্ত থাকবে না।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরানের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এবং শত্রুর আগ্রাসনের জবাবে তেহরান যেকোনো ব্যবস্থা নিতে দ্বিধা করবে না।
রাশিয়ার সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে: ইরান
রাশিয়ার সঙ্গে ইরানের সামরিক সহযোগিতা একটি দীর্ঘমেয়াদী 'কৌশলগত অংশীদারিত্বের' অংশ এবং এটি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে রাশিয়ার কাছ থেকে তেহরান কোনো সহায়তা পাচ্ছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে আরাগচি বলেন, দুই দেশের মধ্যে বছরের পর বছর ধরে সামরিক সম্পর্ক বজায় রয়েছে। তিনি বলেন, 'রাশিয়ার সঙ্গে আমাদের কৌশলগত অংশীদারিত্ব রয়েছে। ইরানের এই সামরিক সহযোগিতা নতুন কিছু নয় এবং এটি কোনো গোপন বিষয়ও নয়। এটি আগেও ছিল, বর্তমানেও আছে এবং ভবিষ্যতেও বজায় থাকবে।'
রাশিয়া কি ইরানকে মার্কিন লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করতে সাহায্য করছে?—এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তার কাছে সুনির্দিষ্ট সামরিক তথ্য নেই, তবে রাশিয়ার সঙ্গে তাদের সম্পর্ক অত্যন্ত মজবুত। তিনি আরও বলেন, 'রাশিয়া আমাদের অনেক ক্ষেত্রে সহায়তা করছে, তবে আমি বিস্তারিত তথ্য দিতে পারছি না।'
সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়, বিদেশি হস্তক্ষেপ মানা হবে না: আরাগচি
ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে দেশটির অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং এতে কোনো ধরনের বিদেশি হস্তক্ষেপ বরদাশত করা হবে না বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, নতুন নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়াটি দেশটির 'বিশেষজ্ঞ পরিষদ' সম্পন্ন করবে।
রোববার (৮ মার্চ) মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরাগচি জানান, ইরানের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কাঠামো সম্পূর্ণ স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে।
তিনি বলেন, 'খুব শিগগিরই বিশেষজ্ঞ পরিষদের মাধ্যমে নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। বর্তমানে দেশের প্রেসিডেন্ট, মন্ত্রিসভা এবং পার্লামেন্ট—সবাই নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।'
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আরাগচি বলেন, 'ইরান তার ঘরোয়া বিষয়ে বাইরের কোনো শক্তির হস্তক্ষেপ মেনে নেবে না। নতুন নেতা নির্বাচন করার অধিকার কেবল ইরানি জনগণের। এটি একান্তই ইরানের বিষয়, অন্য কারো এখানে নাক গলানোর সুযোগ নেই।'
ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ইসরায়েলে আহত ৩, একজনের অবস্থা গুরুতর
ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের স্প্লিন্টার বা টুকরোর আঘাতে ইসরায়েলে অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। ইসরায়েলি উদ্ধারকারী সংস্থার বরাত দিয়ে এই তথ্য জানা গেছে।
উদ্ধারকারী সংস্থা জানিয়েছে, তারা আহতদের চিকিৎসা সেবা দিচ্ছে। আহতদের মধ্যে ৪০ বছর বয়সী এক ব্যক্তির অবস্থা আশঙ্কাজনক। এছাড়া ২৫ বছর বয়সী এক যুবক মাঝারিভাবে এবং ৫৬ বছর বয়সী এক ব্যক্তি সামান্য আহত হয়েছেন। তবে এই ঘটনাটি ঠিক কোথায় ঘটেছে সে সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
পৃথক এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তাদের উদ্ধারকারী দলগুলো মধ্য ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়ার একটি স্থানে কাজ করছে।
এর আগে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছিল যে, তারা ইরান থেকে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ঘটনা শনাক্ত করেছে। এই হামলার বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য আসার অপেক্ষায় রয়েছে।
ইসরায়েলের দুই শহর ও জর্ডানে মার্কিন বিমানঘাঁটিতে হামলার দাবি আইআরজিসির
ইসরায়েলের তেল আবিব ও বিরশেবা শহরের 'সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে' ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। একইসঙ্গে জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতেও হামলার দাবি করেছে তারা।
ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সিতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, জর্ডানের আজরাক শহরে অবস্থিত মোয়াফফাক আল-সালতি বিমানঘাঁটিতে কয়েক দফা আঘাত হানা হয়েছে। আইআরজিসি এই ঘাঁটিটিকে 'মার্কিন আগ্রাসী যুদ্ধবিমানের বৃহত্তম এবং সবচেয়ে সক্রিয় শক্তিশালী ঘাঁটি' হিসেবে বর্ণনা করেছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, 'আগামী কয়েক ঘণ্টা এবং দিনগুলোতে শত্রুর ওপর ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর হামলার ব্যাপ্তি ও গভীরতা আরও বৃদ্ধি পাবে।'
ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা চূড়ান্ত, নাম এখনো প্রকাশ করা হয়নি
ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ কমিটি তাদের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছে। কমিটির সদস্যরা জানিয়েছেন যে, তারা একজন উত্তরসূরি মনোনীত করেছেন, তবে তার নাম এখনো জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি।
ইরানের সংবাদ সংস্থা আইএসএনএ -এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশেষজ্ঞ পরিষদের (অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস) সদস্য এবং খুজেস্তান প্রদেশের প্রতিনিধি মোহসেন হেইদারি বলেছেন, 'পরিষদের অধিকাংশ সদস্যের সম্মতিতে সবচেয়ে যোগ্য প্রার্থীকে নির্ধারণ করা হয়েছে।'
একই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন পরিষদের আরেক সদস্য মোহাম্মদ মেহদি মিরবাঘেরি। ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সিতে প্রকাশিত একটি ভিডিও বার্তায় তিনি জানান, 'সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের ভিত্তিতে একটি সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে পরিষদ।'
মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ইরানে প্রায় ১০ হাজার বেসামরিক স্থাপনা ধ্বংস: রেড ক্রিসেন্ট
ইরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর সাম্প্রতিক হামলায় অন্তত ৯,৬৬৯টি বেসামরিক স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (আইআরসিএস)।
স্বেচ্ছাসেবী এই ত্রাণ সংস্থার প্রকাশিত সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ধ্বংসপ্রাপ্ত স্থাপনাগুলোর মধ্যে ৭,৯৪৩টি আবাসিক ইউনিট (বাড়িঘর) এবং ১,৬১৭টি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, এসব হামলায় সাধারণ মানুষের জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং বিপুল সংখ্যক বেসামরিক নাগরিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
খামেনির উত্তরসূরিদেরও খুঁজে বের করে লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি ইসরায়েলের
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রতিটি উত্তরসূরিকে 'খুঁজে বের করার' হুমকি দিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী (আইডিএফ)। কেবল খামেনির উত্তরসূরিই নয়, বরং যারা পরবর্তী নেতা নির্বাচন প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত থাকবেন, তাদেরও সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করার কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটি।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর ফার্সি ভাষার এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে জানানো হয়েছে, ইরানের 'অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস' বা বিশেষজ্ঞ পরিষদ—যারা কয়েক দশক ধরে কোনো সভার আয়োজন করেনি—তারা শীঘ্রই কওম শহরে জড়ো হতে যাচ্ছে।
এই সভার পরিপ্রেক্ষিতে আইডিএফ সরাসরি হুমকি দিয়ে বলেছে, 'আমরা আপনাদের বলতে চাই, ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিটি উত্তরসূরি এবং যারা উত্তরসূরি নিয়োগের চেষ্টা করছে—তাদের সবাইকে খুঁজে বের করা অব্যাহত রাখবে।'
যারা এই নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অংশ নেবেন, তাদের সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি দিয়ে আইডিএফ-এর পোস্টে আরও বলা হয়েছে, 'যারা উত্তরসূরি নির্বাচনের এই বৈঠকে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাদের সতর্ক করে দিচ্ছি—আমরা আপনাদের টার্গেট করতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করব না। এটি একটি সতর্কতা!'
ইরানের পাল্টা হামলায় ইসরায়েলে প্রায় ২ হাজার মানুষ হাসপাতালে ভর্তি
তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলার জবাবে ইরানের পাল্টা আক্রমণ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ৯২৯ জন ইসরায়েলিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৫৭ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছেন। চিকিৎসাধীন ব্যক্তিদের মধ্যে ৯ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক, ৪২ জনের অবস্থা মাঝারি ধরনের গুরুতর এবং ৭০ জনের আঘাত সামান্য।
মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, হাসপাতালে আসা ব্যক্তিদের একটি বড় অংশ সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে নয়, বরং হামলার সাইরেন শোনার পর দ্রুত সুরক্ষিত এলাকায় বা আশ্রয়কেন্দ্রে (প্রটেক্টেড এরিয়া) যাওয়ার সময় দুর্ঘটনার শিকার হয়ে আহত হয়েছেন।
তেলের ডিপোতে ইসরায়েলি হামলা: তেহরানে ঝরছে 'কালো তেলমিশ্রিত' বৃষ্টি:
ইরানের রাজধানী তেহরানের প্রায় ১ কোটি মানুষ আজ এক অদ্ভুত ও আতঙ্কিত সকালে ঘুম থেকে জেগেছেন। নগরীর আকাশ ছেয়ে আছে ঘন কালো মেঘে। আর সেখান থেকে যে বৃষ্টি পড়ছে, তার রঙ পুরোপুরি কালো। ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় ইরানের তেল মজুদাগারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিএনএন-এর প্রতিনিধি ফ্রেড প্লিটজেন।
তেহরান থেকে প্লিটজেন জানান, 'আপনি দেখতে পাচ্ছেন যে বৃষ্টির পানি আসলে কালো—দেখে মনে হচ্ছে এটি তেলেও সম্পৃক্ত।' তিনি আরও যোগ করেন, 'ইসরায়েলি হামলার পর ইরানি রাজধানীতে আজ সকালে এই ধরনের তেলমিশ্রিত বৃষ্টিই ঝরছে।'
শনিবার সন্ধ্যায় তেহরানের বিভিন্ন জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। তাদের দাবি, এসব স্থাপনা থেকে সামরিক সংস্থাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে জ্বালানি সরবরাহ করা হতো।
সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের প্রকাশিত ভিডিওতে তেহরানের শাহরান তেল শোধনাগার থেকে আগুনের লেলিহান শিখা এবং ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশে উঠতে দেখা গেছে। এই হামলার ফলে নগরীর বায়ুমণ্ডলে তেলের কণা ও কার্বন ছড়িয়ে পড়ায় বৃষ্টির রঙ কালো হয়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে টেলিগ্রাম বার্তায় দেওয়া এক সতর্কবার্তায় রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, তেল ও রাসায়নিক স্থাপনায় বিস্ফোরণের ফলে বিষাক্ত কণা বায়ুমণ্ডলে মিশে গেছে। বৃষ্টির পানির সঙ্গে এসব রাসায়নিক মিশে তা স্বাস্থ্যের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে ত্বক এবং শ্বাসতন্ত্রের ওপর এর ভয়াবহ প্রভাব পড়ার শঙ্কা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে ইরান রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (আইআরসিএস)।
বাহরাইনে ইরানি হামলা: বিশ্ববিদ্যালয় ও পানি শোধন কেন্দ্রে ক্ষয়ক্ষতি, আহত ৩
বাহরাইনের ওপর ইরানের হামলায় অন্তত ৩ জন আহত হয়েছেন এবং একটি বিশ্ববিদ্যালয় ভবন ও পানি শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে এই তথ্য জানা গেছে।
বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে জানিয়েছে, দেশটির তৃতীয় জনবহুল শহর মুহারাকে একটি বিশ্ববিদ্যালয় ভবনে হামলার ঘটনা ঘটেছে। ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ ওপর থেকে পড়ার কারণে অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন বলে মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে।
পৃথক এক পোস্টে মন্ত্রণালয় জানায়, ইরানের একটি ড্রোন হামলার ফলে দেশটির একটি লবণাক্ত পানি শোধন কেন্দ্র (ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্ট) ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে ওই শোধন কেন্দ্রটি কোথায় অবস্থিত, তা প্রকাশ করা হয়নি।
বাহরাইনের এই অভিযোগ এমন এক সময়ে এল, যার একদিন আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি দাবি করেছিলেন যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কেশম দ্বীপের একটি স্বাদু পানি শোধন কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে।
তার সেই বক্তব্যের পরদিনই বাহরাইন তাদের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ইরানি হামলার দাবি করল।
তবে বাহরাইনের এই বিবৃতির পর এখন পর্যন্ত ইরানের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো তাদের পানীয় জলের চাহিদার জন্য এই ধরণের শোধন কেন্দ্রগুলোর ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। ফলে এসব স্থাপনাকে অঞ্চলজুড়ে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
ইসরায়েলি হামলায় তেল উপচে তেহরানের রাস্তায় 'আগুনের নদী'
ইসরায়েলি বিমান হামলায় ধ্বংস হওয়া তেল ডিপো থেকে নির্গত জ্বালানি তেল তেহরানের পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থায় (সুয়্যারেজ সিস্টেম) ছড়িয়ে পড়েছে। এর ফলে ইরানের রাজধানীর রাস্তার পাশে যেন এক 'আগুনের নদী' তৈরি হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) তেহরানের সংস্কৃতি ও শিল্পবিষয়ক অ্যাকাউন্ট 'লিভিং ইন তেহরান'-এর পোস্ট করা একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, শহরের একটি রাস্তার পাশ দিয়ে দীর্ঘ এলাকাজুড়ে আগুনের শিখা বয়ে যাচ্ছে। ড্রেন বা পয়ঃনিষ্কাশন নালা দিয়ে তেলের সঙ্গে আগুন প্রবাহিত হওয়ায় এই ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
এর আগে ইরানের তেল মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছিল যে, তেহরানের পশ্চিমে আলবোর্জ প্রদেশের কারাজ শহরসহ মোট তিনটি এলাকার জ্বালানি ডিপোতে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। ওই ধ্বংসপ্রাপ্ত ডিপোগুলো থেকে তেল চুইয়ে পড়ার ফলেই এই বিপত্তি ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনে ঐকমত্যের আভাস
ইরানের সদ্যপ্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির উত্তরসূরি কে হচ্ছেন, তা নিয়ে একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন দেশটির প্রভাবশালী সংস্থা 'অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস' বা বিশেষজ্ঞ পরিষদের সদস্যরা। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে মার্কিন হামলায় খামেনির মৃত্যুর পর দেশটিতে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া চলছে।
বিশেষজ্ঞ পরিষদের সদস্য আয়াতুল্লাহ মোহাম্মদ-মাহদি মীরবাঘেরি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা কে হবেন সে বিষয়ে একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে। ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা 'ফার্স নিউজ'-এর টেলিগ্রাম চ্যানেলে পোস্ট করা এক ভিডিওতে মীরবাঘেরি বলেন, 'নেতৃত্ব নির্ধারণে ব্যাপক প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে এবং একটি চূড়ান্ত ও সর্বসম্মত মতামতের বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে।'
একই বিষয়ে ফার্স নিউজকে দেওয়া পৃথক এক সাক্ষাৎকারে বিশেষজ্ঞ পরিষদে জানজান প্রদেশের প্রতিনিধি হুজ্জাতুল ইসলাম জাফরি বলেন, তিনি আশা করেন যে 'ইরানের সকল মানুষ যত দ্রুত সম্ভব সন্তুষ্ট হবে।'
নির্বাচন প্রক্রিয়ায় দেরি হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'তৃতীয় নেতা নির্বাচনে বিলম্ব সবার জন্য তিক্ত এবং অনাকাঙ্ক্ষিত। তবে এর কোনো বিকল্প নেই, তাই এই কঠিন সময়ে আমাদের প্রতিনিধিদের সম্পর্কে আমাদের কোনো খারাপ ধারণা পোষণ করা উচিত নয়।'
ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, ৮৮ সদস্যের এই বিশেষজ্ঞ পরিষদই নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের প্রধান দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা। প্রায় ৩৭ বছর ইরানের নেতৃত্বে থাকা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর এখন দেশটিতে তৃতীয় সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের ভার তাদের হাতে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় খামেনি নিহত হন।
ইরানে তেল ডিপোতে ইসরায়েলি বিমান হামলা, নিহত ৪
ইরানের তেহরান এবং আলবোর্জ প্রদেশের তেল ডিপোগুলোতে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত চারজন ট্যাঙ্কার চালক নিহত হয়েছেন। দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ফার্স-এর বরাতে এই তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরান ও আলবোর্জ এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনী চারটি তেল মজুদাগার (স্টোরেজ ফ্যাসিলিটি) এবং একটি তেল উৎপাদন স্থানান্তর কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে।
হামলার পর তেল স্থাপনাগুলোতে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ফার্স জানিয়েছে, বর্তমানে নিরাপত্তা বাহিনী ও দমকল কর্মীরা 'অগ্নিনির্বাপণ অভিযানে নিয়োজিত রয়েছে।'
ইসফাহানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা, নিহত ১১
ইরানের মধ্যাঞ্চলীয় প্রদেশ ইসফাহানে মার্কিন ও ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানগুলো বেশ কয়েকটি উৎপাদন কারখানা এবং একটি ঘোড়দৌড় ক্লাবে হামলা চালিয়েছে। এতে অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম।
তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলাকারীরা বেশ কয়েকটি ওয়ার্কশপ বা উৎপাদন কারখানা এবং একটি ঘোড়া চালনা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রকে (হর্স রাইডিং ক্লাব) লক্ষ্যবস্তু করেছে। হামলায় ১১ জন নিহতের পাশাপাশি আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।
ইসফাহান প্রদেশের অন্তত আটটি শহরে এই ভয়াবহ বিমান হামলা চালানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত শহরগুলোর মধ্যে রয়েছে—প্রাদেশিক রাজধানী ইসফাহান, নাজাফাবাদ, আরান, বিদগোল, বারখার, খোমেনি শহর, শাহরেজা, ফালাভারজান এবং মোবারাকেহ।
ইরানের ইসফাহানে ইসরায়েলি হামলা, এফ-১৪ যুদ্ধবিমান ধ্বংসের দাবি
ইরানের ইসফাহান বিমানবন্দরে বিমান হামলা চালিয়ে বেশ কিছু এফ-১৪ যুদ্ধবিমান ধ্বংস করার দাবি করেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। গতকাল শনিবার এই হামলা চালানো হয় বলে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
টেলিগ্রামে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি বাহিনী জানিয়েছে, যুদ্ধবিমান ধ্বংসের পাশাপাশি তারা ইরানের নজরদারি ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপরও আঘাত হেনেছে। বিবৃতিতে বলা হয়, 'অতিরিক্ত হিসেবে, ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর বিমানের জন্য হুমকিস্বরূপ ডিটেকশন সিস্টেম (সনাক্তকরণ ব্যবস্থা) এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় আঘাত হানা হয়েছে।'
ইসরায়েলি বাহিনী জানিয়েছে, এই হামলাটি গত শুক্রবার তেহরানের মেহরাবাদ বিমানবন্দরে চালানো অভিযানের ধারাবাহিকতা। ওই অভিযানে কুদস ফোর্সের ১৬টি বিমান ধ্বংস করা হয়েছিল বলে দাবি করেছে ইসরায়েল।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ৬ মাস 'তীব্র যুদ্ধ' চালানোর সক্ষমতা আছে: আইআরজিসি
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে চলমান এই পরিস্থিতির মধ্যেও অন্তত ছয় মাস 'তীব্র যুদ্ধ' চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর রয়েছে বলে দাবি করেছেন দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর মুখপাত্র আলী মোহাম্মদ নাইনি। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা 'ফার্স'-এর বরাতে এই তথ্য জানা গেছে।
মুখপাত্র নাইনি বলেন, বর্তমান গতিতে যুদ্ধ চালিয়ে গেলে ইরান টানা ছয় মাস লড়াই চালিয়ে যেতে পারবে। গত কয়েকদিনের ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির মধ্যেও আইআরজিসি এই যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।
ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির বিষয়ে নাইনি আরও জানান, ইরান এখন পর্যন্ত কেবল 'প্রথম এবং দ্বিতীয় প্রজন্মের' ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ব্যবহার করেছে। তবে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামী দিনগুলোতে ইরান 'অত্যাধুনিক এবং দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র' ব্যবহার শুরু করবে, যা সচরাচর ব্যবহার করা হয় না।
স্পেশাল ফোর্স পাঠিয়ে ইরানের পরমাণু ভাণ্ডার জব্দ করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল
ইরানের উচ্চ মাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ জব্দ করতে দেশটিতে বিশেষ বাহিনী (স্পেশাল ফোর্স) পাঠানোর বিষয়ে আলোচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সরকার। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস-এর এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়েছে।
অ্যাক্সিওস জানায়, এই বিশেষ অভিযানে শুধু মার্কিন বা ইসরায়েলি বাহিনী অংশ নেবে, নাকি এটি একটি যৌথ অভিযান হবে—সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই মিশনটি সম্ভবত হামলার 'পরবর্তী ধাপে' বাস্তবায়িত হবে। দুই দেশ যখন নিশ্চিত হবে যে ইরানের সামরিক বাহিনী আর কোনো জোরালো প্রতিরক্ষা গড়ে তোলার সক্ষমতা রাখে না, তখনই এই কমান্ডো অভিযান চালানো হতে পারে।
ইরানের কাছে বর্তমানে ৬০ শতাংশ মাত্রায় সমৃদ্ধ ৪০০ কেজিরও বেশি (৮৮২ পাউন্ড) ইউরেনিয়ামের মজুদ রয়েছে। তবে এই বিশাল মজুদের বর্তমান অবস্থা বা অবস্থান নিয়ে তীব্র অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পরিদর্শকরা সর্বশেষ গত ১০ জুন এই ইউরেনিয়াম দেখেছিলেন। এরপর থেকে এর কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছে না।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু করার আগে আইএইএ-র সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল, ইরান ৬০ শতাংশ বিশুদ্ধতায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে। পারমাণবিক প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় বিশুদ্ধতা বা 'ওয়েপন-গ্রেড' পর্যায়ে পৌঁছানোর খুব কাছাকাছি একটি ধাপ। ইরানের এই পরমাণু সক্ষমতা ধ্বংস করতেই এখন বিশেষ বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা করছে ওয়াশিংটন ও তেল আবিব।
'আমেরিকানদের হত্যা করলে আমরা তোমাদেরও হত্যা করব': মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী
আমেরিকান নাগরিকদের ওপর হামলার জবাবে নতুন করে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক পোস্টে এই হুমকি প্রকাশ করেছে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথকে উদ্ধৃত করে পোস্টে বলা হয়, 'যদি তোমরা আমেরিকানদের হত্যা করো, যদি পৃথিবীর কোথাও আমেরিকানদের হুমকি দাও, তবে আমরা কোনো ক্ষমা বা দ্বিধা ছাড়াই তোমাদের খুঁজে বের করব এবং হত্যা করব।'
এই বার্তার সঙ্গে ২১ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ক্লিপও প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে মার্কিন বাহিনীর চালানো বিভিন্ন বোমা হামলার 'আনক্লাসিফাইড' (প্রকাশযোগ্য) দৃশ্য দেখানো হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, মার্কিন বাহিনীর গোলার আঘাতে বিভিন্ন যান ও অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।
কুয়েত বিমানবন্দরে ড্রোন হামলা, লক্ষ্য ছিল জ্বালানি ট্যাংক
কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জ্বালানি ট্যাংক লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী। গুরুত্বপূর্ণ এই রাষ্ট্রীয় অবকাঠামোতে ড্রোন হামলার ঘটনাটি নিশ্চিত করেছে কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
কুয়েত সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, 'গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করে কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জ্বালানি ট্যাংকগুলোতে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।'
বিবৃতিতে ওই মুখপাত্র আরও জানান, দেশটির আকাশসীমা লঙ্ঘনকারী একঝাঁক 'শত্রুভাবাপন্ন ড্রোন' মোকাবিলা করছে কুয়েতের সশস্ত্র বাহিনী।
তবে এই হামলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বা কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। কারা এই ড্রোন হামলা চালিয়েছে, সে বিষয়েও কুয়েত সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা 'কখনোই হওয়া উচিত ছিল না': চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান মার্কিন-ইসরায়েলি সামরিক অভিযান 'কখনোই হওয়া উচিত ছিল না' বলে মন্তব্য করেছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। একই সঙ্গে তিনি অবিলম্বে শত্রুতা বন্ধ করে আলোচনার টেবিলে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
বেইজিংয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ওয়াং ই বলেন, সামরিক শক্তি ব্যবহার করে বর্তমান সংকটের 'কখনোই সমাধান হবে না'। তিনি সংঘাতের বদলে কূটনৈতিক পন্থায় সংকট উত্তরণের ওপর জোর দেন।
সংবাদ সম্মেলনে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, 'শক্তিশালী মুষ্টি মানেই শক্তিশালী যুক্তি নয়। বিশ্ব আবার "জোর যার মুল্লুক তার"—এমন শাসনে ফিরে যেতে পারে না।'
ইরানে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের বিষয়ে ওয়াং ই বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন ইরানে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের প্রতি জনগণের কোনো সমর্থন নেই। মূলত কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেই দীর্ঘস্থায়ী শান্তি সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।
ইরানের হামলার মুখে আত্মরক্ষায় 'দ্বিধা করবে না' কাতার: ট্রাম্পকে আমির
ইরানের পক্ষ থেকে ক্রমাগত হামলার মুখে কাতার নিজেকে রক্ষা করতে 'দ্বিধা করবে না' বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ বিন খলিফা আল থানি।
কাতার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থার বরাতে জানা গেছে, এক ফোনালাপে আমির ট্রাম্পকে বলেন, এই অঞ্চলে বর্তমানে সামরিক তৎপরতা যেভাবে বাড়ছে, তার 'বিপজ্জনক পরিণতি' হতে পারে।
এর আগে আজ শনিবার কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, দেশটিকে লক্ষ্য করে চালানো একটি 'ক্ষেপণাস্ত্র হামলা' তারা সফলভাবে প্রতিহত করেছে।
বৈরুতে ইরানি বাহিনীর ওপর ইসরায়েলের 'সুনির্দিষ্ট হামলা'
লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ইরানি বাহিনীর ওপর 'সুনির্দিষ্ট হামলা' চালানোর দাবি করেছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। এক টেলিগ্রাম বার্তায় আইডিএফ জানিয়েছে, বৈরুতে অবস্থানরত ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কুদস ফোর্সের লেবানন কর্পসের 'প্রধান কমান্ডারদের' লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে।
কুদস ফোর্স হলো আইআরজিসি-র একটি শাখা, যারা মূলত বিদেশের মাটিতে সামরিক কার্যক্রম পরিচালনা করে। আইডিএফ চলতি সপ্তাহের শুরুতে দাবি করেছিল যে, তারা লেবানন কর্পসের সাময়িক কমান্ডার দাউদ আলিজাদেহকে হত্যা করেছে।
শনিবার রাতের এই হামলা সম্পর্কে আইডিএফ এক বিবৃতিতে বলেছে, কুদস ফোর্স 'ইসরায়েল রাষ্ট্র এবং এর নাগরিকদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হামলা চালানোর উদ্দেশ্যে কাজ করছিল।' বিবৃতিতে তারা আরও যোগ করে, 'ইরানি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর কমান্ডাররা যেখানেই থাকুক না কেন, তাদের সুনির্দিষ্টভাবে নির্মূল করা অব্যাহত রাখা হবে।'
আইডিএফ অবশ্য এই হামলার সুনির্দিষ্ট স্থান উল্লেখ করেনি। অন্যদিকে, এই হামলা সম্পর্কে এখন পর্যন্ত ইরানি কর্মকর্তাদের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এই হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেই আইডিএফ জানিয়েছিল যে, তারা বৈরুতের দাহিয়েহ এলাকায় 'হিজবুল্লাহর অবকাঠামো' লক্ষ্য করে 'আরেক দফা বিমান হামলা' শুরু করেছে।
ইরানের তেল স্থাপনায় হামলা ইসরায়েলের
শনিবার রাতে তেহরান ও পার্শ্ববর্তী শহর কারাজসহ একাধিক তেল স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। হামলার পর আগুন লেগে কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় অনেক এলাকার আকাশ। শক্তিশালী বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা।
যুদ্ধ শুরুর পর এই প্রথম ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালাল ইসরায়েল।
ইরানের তেল মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তেহরান ও আলবোর্জ প্রদেশের একাধিক তেলের ডিপো লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীও এই হামলার কথা স্বীকার করে দাবি করেছে, ওই জ্বালানি মজুত কেন্দ্র ও কমপ্লেক্সগুলো ইরানি সেনাবাহিনী ব্যবহার করত। সরকারের সামরিক অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দিতেই এই 'তাৎপর্যপূর্ণ' হানা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েল।
তেহরান বড় শহর, প্রায় এক কোটি মানুষের বাস এখানে। ঘিঞ্জি এলাকা হওয়ার কারণে শহরটিতে সামরিক ও বেসামরিক অবকাঠামো খুব কাছাকাছি অবস্থিত। ফলে শনিবারের এই হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর মিলেছে। ইরানি সংবাদমাধ্যম ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, লক্ষ্যবস্তুর কাছাকাছি থাকা বসতবাড়ি, দোকানপাট, রাস্তাঘাট, পানির পাইপলাইন এমনকি বেশ কিছু হাসপাতাল ও স্কুলও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, দক্ষিণ তেহরানের শাহর রেই জেলায় যে তেল ডিপো আক্রান্ত হয়েছে, তার ঠিক পাশেই রয়েছে শহরের প্রধান তেল শোধনাগার। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ভিডিয়োতে দেখা গেছে, ওই এলাকা থেকে বিশাল আগুনের শিখা আকাশে উঠছে।
এর আগে শনিবার ভোরেই ইরানের ব্যস্ততম অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দর মেহরাবাদ-এ হামলা চালায় ইসরায়েল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিমানবন্দর থেকে শুরু করে জ্বালানি তেলের ডিপোতে বিস্ফোরণ এতটাই তীব্র ছিল যে মাইলের পর মাইল দূরের বাড়িঘরও কেঁপে ওঠে। আকাশ ঢাকা পড়ে ঘন কালো ধোঁয়ায়।
কয়েকজন মার্কিন সেনাকে আটকের দাবি ইরানের
গত সপ্তাহে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান বেশ কয়েকজন মার্কিন সেনাকে আটক করেছে বলে দাবি করেছেন দেশটির ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান আলি লারিজানি।
শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'এক্স'-এ দেওয়া এক পোস্টে লারিজানি লেখেন, মার্কিন প্রশাসন এই বন্দি হওয়ার খবরটি সুকৌশলে ধামাচাপা দিতে চাইছে।
লারিজানি তার পোস্টে লিখেছেন, 'আমার কাছে খবর এসেছে যে বেশ কয়েকজন আমেরিকান সেনাকে বন্দি করা হয়েছে। কিন্তু আমেরিকার দাবি, তারা যুদ্ধক্ষেত্রে প্রাণ হারিয়েছেন। মিথ্যে চেষ্টা চালিয়ে সত্যিটাকে খুব বেশি দিন লুকিয়ে রাখা যাবে না।'
তবে লারিজানির এই দাবি অস্বীকার করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। এক বিবৃতিতে মার্কিন নৌবাহিনীর ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স বলেন, 'মিথ্যে রটনা ও বিভ্রান্তি ছড়ানোই এখন ইরানি প্রশাসনের প্রধান কাজ।'
একই সুরে আল জাজিরা অ্যারাবিক-কে দেওয়া এক বিবৃতিতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড-এর (সেন্টকম) একজন মুখপাত্রও ইরানের দাবিকে 'ভিত্তিহীন অপপ্রচার' বলে আখ্যা দিয়েছেন।
২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা শুরু করার পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ছয় মার্কিন সেনার মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির তথ্যমতে,, এই যুদ্ধে এ পর্যন্ত প্রায় ১৮০ জন শিশুসহ ১ হাজার ৩৩২ জন ইরানির মৃত্যু হয়েছে।
ইরানের নেতা, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী ও মিসাইল সক্ষমতা নির্মূলের দাবি ট্রাম্পের
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ আরও 'কিছু দিন' চলবে এবং যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি আমেরিকার জন্য 'অবিশ্বাস্য রকমের ইতিবাচক'। মার্কিন অভিযানের ধাক্কায় ইরানের নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী ও মিসাইল সক্ষমতা এখন ধ্বংসস্তূপ বলেও দাবি করেন তিনি।
শনিবার এয়ার ফোর্স ওয়ান-এ ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, 'এক সপ্তাহে আমরা যা অর্জন করেছি, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। আমরা ওদের গোটা নৌবাহিনী—প্রায় ৪৪টি জাহাজ ধ্বংস করে দিয়েছি। ওদের বিমানবাহিনীীর প্রতিটি প্লেন ধ্বংস হয়ে গেছে।'
ইরানের সামরিক শক্তিকে পঙ্গু করে দেওয়ার দাবি জানিয়ে তিনি আরও বলেন, 'ওদের অধিকাংশ মিসাইল আমরা ধ্বংস করেছি। আপনারা নিশ্চয় দেখছেন, আগের মতো আর মিসাইল ধেয়ে আসছে না। যেখানে মিসাইল তৈরি হয়, সেই নির্মাণকেন্দ্রগুলোতেও আমরা প্রচণ্ড আঘাত হেনেছি। ওদের ড্রোন তৈরির সক্ষমতা এখন তলানিতে।'
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, 'ওদের যেখানে আঘাত লাগলে সবচেয়ে বেশি ব্যথা পাবে, ঠিক সেখানেই আমরা মেরেছি। প্রশাসনের প্রায় সব স্তরের নেতৃত্বকেই আমরা নির্মূল করেছি।'
