চমেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি: আলোচনার পর ৭ দিনের জন্য কর্মসূচি স্থগিত
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনার পর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকদের চলমান কর্মবিরতি সাত দিনের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।
সোমবার রাতে ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন (আইডিএ) চমেক শাখার দপ্তর সম্পাদক ডা. মো. ইরফানুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (ডিজিএইচএস) মহাপরিচালক এবং চিকিৎসা শিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিজিএমই) মহাপরিচালকের সঙ্গে সারা দেশের ইন্টার্ন চিকিৎসক প্রতিনিধিদের বৈঠকের পর সর্বসম্মতিক্রমে কর্মবিরতি আগামী সাত দিনের জন্য স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর আগে ছয় দফা দাবিতে গত রোববার থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেন চমেকসহ দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। কর্মবিরতির দ্বিতীয় দিনে আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করেন।
একই সঙ্গে চমেক হাসপাতালের পোস্ট গ্র্যাজুয়েট প্রাইভেট ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক ডা. হাবিবুর রহমান সোহাগের নেতৃত্বে এফসিপিএস প্রশিক্ষণার্থী চিকিৎসকেরাও মানববন্ধনে অংশ নিয়ে আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানান।
আজ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠকের আগে আন্দোলনকারীরা সতর্ক করে বলেছিলেন, দাবির বিষয়ে সন্তোষজনক সিদ্ধান্ত না এলে সারা দেশের মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোতে 'কমপ্লিট শাটডাউন' কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। তবে বৈঠকের পর আপাতত সেই কর্মসূচি থেকে সরে এসে আলোচনার সুযোগ দিতে সাত দিনের জন্য কর্মবিরতি স্থগিত করা হয়েছে।
কর্মবিরতির কারণে গত দুই দিনে চমেক হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে চিকিৎসাসেবা আংশিকভাবে ব্যাহত হয়। ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা দায়িত্ব পালন না করায় যেসব ওয়ার্ডে তাদের প্লেসমেন্ট ছিল, সেসব বিভাগের স্বাভাবিক কার্যক্রমেও প্রভাব পড়ে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল থেকে চমেক হাসপাতালসহ দেশের সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোতে ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা স্বাভাবিক দায়িত্ব পালনে ফিরবেন। আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, আগামী সাত দিনের মধ্যে দাবিগুলোর বিষয়ে কার্যকর অগ্রগতি না হলে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
