ঈদের পর ক্রেতা কম, তবুও চড়া সবজির বাজার
ঈদুল আজহার ছুটির আমেজ এখনো পুরোপুরি কাটেনি রাজধানীতে। ঢাকার অনেক বাসিন্দা এখনো গ্রামের বাড়িতে থাকায় কাঁচাবাজারে ক্রেতাদের উপস্থিতি তুলনামূলক কম। তবে এর কোনো প্রভাব পড়েনি সবজির দামে। বরং বাজারে অধিকাংশ সবজিই বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে। মাছের দামও স্বস্তিদায়ক নয়।
শুক্রবার (৫ জুন) রাজধানীর নিউমার্কেট, লালবাগ ও হাতিরপুল কাঁচাবাজারসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, ঈদের পরও বাজারে স্বাভাবিক কর্মচাঞ্চল্য পুরোপুরি ফেরেনি। অনেক মাছ ও মাংসের দোকান বন্ধ রয়েছে। খোলা থাকা মুরগির দোকানগুলোতেও ক্রেতার ভিড় কম।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি ঊর্ধ্বমুখী সবজির দাম। ক্রেতাদের অভিযোগ, মৌসুমের তুলনায় অনেক সবজির দাম অস্বাভাবিকভাবে বেশি। কোনো কোনো পণ্যের দাম স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।
দেশি টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৭০ টাকা কেজি, দেশি গাজর ১৬০ টাকা, চায়না গাজর ১৮০ টাকা এবং শিম ৩২০ টাকা কেজি। শজনে বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকা, দেশি শসা ১২০ থেকে ১৬০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১৪০ টাকা এবং ধনেপাতা ২০০ টাকা কেজি দরে।
এ ছাড়া বেগুন, করলা, কাঁকরোল, ঢ্যাঁড়স, পটোল, চিচিঙ্গা, ধুন্দল, ঝিঙা ও বরবটির দাম ৭০ থেকে ১৪০ টাকার মধ্যে রয়েছে। আকারভেদে একটি লাউ কিনতে গুনতে হচ্ছে ৮০ টাকা। ফুলকপি ৭০ টাকা, বাঁধাকপি ৬০ থেকে ৭০ টাকা এবং কাঁচা কলার হালি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়।
নিউমার্কেটে বাজার করতে আসা গৃহিণী শারমিন আক্তার টিবিএসকে বলেন, "ঈদের পর অনেকের বাসায় কোরবানির মাংস আছে, তাই বাজারে ভিড়ও কম। কিন্তু সবজির দামে তার কোনো প্রভাব নেই। সংসারের জন্য কয়েক ধরনের সবজি কিনতেই ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা খরচ হয়ে যাচ্ছে। বাজারে এসে স্বস্তি পাওয়ার মতো কোনো পণ্যের দাম দেখছি না।"
নিউমার্কেটের সবজি ব্যবসায়ী সালাম হোসেন টিবিএসকে বলেন, "ঈদের কারণে এখনো বাজার পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। অনেক পাইকার ফেরেননি। ফলে সরবরাহে কিছুটা ঘাটতি রয়েছে। এ কারণেই দাম বেশি।"
অন্যদিকে আলু ও পেঁয়াজের বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে। দেশি পেঁয়াজ ৪৫ টাকা, ক্রস জাতের পেঁয়াজ ৪০ টাকা এবং আলু ২৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। দেশি রসুন ৯০ থেকে ১০০ টাকা, চায়না রসুন ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা এবং আদা ১৬০ থেকে ১৮০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে মুরগি ও ডিমের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায়। কক মুরগির দাম ৩৪০ থেকে ৩৫০ টাকা এবং লেয়ার মুরগি ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকা। ডজনপ্রতি লাল ডিম ১২০ টাকা ও সাদা ডিম ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
নিউমার্কেটের মুরগি বিক্রেতা সজিব টিবিএসকে বলেন, "ঈদের পর আজই দোকান খুলেছি। মানুষের ঘরে এখনো কোরবানির মাংস থাকায় মুরগির চাহিদা কম। ক্রেতা কম থাকায় আগামী কয়েক সপ্তাহে মুরগির দাম আরও কিছুটা কমতে পারে বলে ধারণা করছি।"
মাছের বাজারেও সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই, তবু দাম কমেনি। বাজারে রুই মাছ কেজিপ্রতি ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, কাতলা ৩৮০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং কালিবাউশ ৩৫০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চিংড়ির দাম আকারভেদে ৮০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত।
