ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী মিমোর আত্মহত্যা: শিক্ষক সুদীপ ৩ দিনের রিমান্ডে
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মুনিরা মাহজাবিন মিমোর আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে করা মামলায় একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সুদীপ চক্রবর্তীকে ৩ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।
রাজধানীর বাড্ডা থানায় করা এই মামলায় পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজ রোববার (৩ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মনজুরুল ইসলামের আদালত এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
এর আগে গত বুধবার (২৯ এপ্রিল) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বাড্ডা থানার উপপরিদর্শক কাজী ইকবাল হোসেন আসামিকে আদালতে হাজির করে ৩ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। তবে ওইদিন আদালত রিমান্ড শুনানির জন্য আজকের দিন ধার্য করেছিলেন।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, আসামি ড. সুদীপ চক্রবর্তীর সাথে ভিক্টিম মিমোর সম্পর্ক ছিল। ঘটনার আগে গত ২৬ এপ্রিল মিমোর সাথে তার ভিডিও কলে কথা হয়। সেখান থেকেই মিমো আত্মহত্যার প্ররোচনা পান। গ্রেপ্তারের পর আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদে বিভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। এসব তথ্য যাচাই ও ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটনের জন্য তাকে রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন।
রিমান্ডের পক্ষে শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন বলেন, 'ভিক্টিমের বাবা ঘটনার পরে রাত ১টার সময় যে চ্যাটিং দেখেছেন, তার ভিত্তিতেই মামলা করেছেন। তদন্ত কর্মকর্তা দুইজনের চ্যাট চেক করেছেন। তার সাথে ছাত্রীর যে সম্পর্ক তা উঠে আসছে। এছাড়াও আসামির সাথে মিমোর বান্ধবী হানি ও অনেকের সাথে সম্পর্ক ছিল। এমনিতেই একজন মানুষ সুইসাইড করেননি। এটার পেছনে শেল্টার দিয়েছেন আসামি সুদীপ। মামলার তদন্ত স্বার্থে আসামির সর্বোচ্চ রিমান্ডের প্রার্থনা করছি।'
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী আবু সায়েমসহ বেশ কয়েকজন রিমান্ড বাতিলের শুনানিতে বলেন, 'কোন ডেভেলপমেন্টের ওপরে তদন্ত কর্মকর্তা রিমান্ড চাইলেন? ডিজিটাল যুগে অনেকসময় অনেক কিছু করা যায়। তার (মিমোর) মায়ের একটি রেকর্ড আছে সেটা শুনলে আশা করি সব স্পষ্ট হয়ে যাবে।' পরে তারা আদালতে একটি পেনড্রাইভে থাকা রেকর্ডিং জমা দেন।
আসামিপক্ষের অন্যান্য আইনজীবীরা আদালতে বলেন, 'ভিক্টিমের আগে একটা বিয়ে ছিল। এর পাশাপাশি সে অন্য একটি ছেলের সাথে সম্পর্কে জড়িত ছিল। এমনকি ভিক্টিম প্রায়ই জুনিয়র ছেলেদের নিয়ে বাসায় যেতেন। যেটি তার বান্ধবী ও মায়ের (অডিও) কথোপকথনে রয়েছে। এছাড়াও তিনি মানসিকভাবে সাইকো ছিলেন।'
আইনজীবীরা সেই অডিও রেকর্ড নিয়ে আরও বলেন, '২১ মিনিটের অডিও রেকর্ড রয়েছে তার মা ও বান্ধবীর। যেখানে বান্ধবী তার মাকে জিজ্ঞেস করছিল 'এখনো কি মিমো ব্লেড দিয়ে শরীর কাটে?'
আইনজীবীরা আদালতকে বলেন, 'এটাই বোঝা যায় তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। এজন্যই তার পরিবারের অনুরোধেই আসামি সুদীপ ভিক্টিমকে আলাদাভাবে দেখতেন শুধু মানসিক সাপোর্ট দেওয়ার জন্য। কারণ সে নাটকে ভালো পারফরম্যান্স করত। এজন্য আলাদা একটা সফট কর্নার ছিল৷ প্রয়োজনে আসামিকে রিমান্ডে না নিয়ে জেলগেটে জিজ্ঞাসা করা হোক।'
উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামির ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
উল্লেখ্য, গত ২৬ এপ্রিল রাজধানীর উত্তর বাড্ডায় নিজ বাসা থেকে ঢাবি শিক্ষার্থী মুনিরা মাহজাবিন মিমোর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় একটি চিরকুট পাওয়া যায়, যেখানে লেখা ছিল— 'সুদীপ স্যারকে ৫০ হাজার টাকা দিতে হবে। হানি আর সুদীপ স্যার ভালো থাকো। স্যারের দেওয়া গিফটগুলো ফেরত দেওয়া...।'
পরে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে সুদীপ চক্রবর্তীকে আসামি করে মামলা করা হয় এবং এই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরদিন তার জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছিলেন আদালত।
